প্লেন আকাশে রাস্তা খুঁজে পায় কিভাবে? জানুন বিমানের গন্তব্য নির্ধারণের রহস্য!

আপনি কি কখনো ভেবেছেন আকাশে তো কোন রাস্তা নেই। তাহলে একটা প্লেন কিভাবে সঠিক পথ ধরে পৌঁছে যায় তার গন্তব্যে? মাঝ আকাশে পাইলটরা কিভাবে বুঝতে পারে কোন পথে যেতে হবে। আর সেই বিশাল বোইং প্লেনটা ঢাকা থেকে দিল্লি যেতে কত লিটার ফুয়েল লাগে। আজকের এই ব্লগ পোস্টে জানবো প্লেনের চলাচলের গোপন বিজ্ঞান, পাইলটদের ভাষা আর প্লেন চালানোর জটিল নিয়ম কানুন। আকাশে প্লেনের রাস্তা কিভাবে নির্ধারণ হয়। আকাশে কোন দৃশ্যমান রাস্তা নেই। কিন্তু আকাশপথ ঠিক যেন সড়ক পথের মতোই সুনির্দিষ্ট। এগুলোকে বলা হয় এয়ারওয়েজ বা এয়ার রুটস। পৃথিবীর উপর একাধিক

"আধুনিক ককপিট: জিপিএস ও উন্নত নেভিগেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে পাইলটরা সহজেই আকাশে নিজেদের গন্তব্য খুঁজে পান।"



নির্ধারিত আকাশপথ আছে যেগুলোর নাম ও সংখ্যা নির্দিষ্ট। ঠিক যেন মহাসড়কের মত। প্রতিটি প্লেন তার গন্তব্যে যাবার জন্য একটি পূর্ব নির্ধারিত পথ অনুসরণ করে। যেটা নির্ধারণ করে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল এবং ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। পাইলটরা ওয়ে পয়েন্ট নামক নির্দিষ্ট জিপিএস পয়েন্ট ফলো করে আকাশে গন্তব্যের দিক খুঁজে নেয়। এই ওয়ে পয়েন্টগুলোর নাম থাকে। যেমন DABUR G452 N571 এগুলো হলো আকাশে প্লেন চলাচলের মাইলফলক। পাইলটরা মাঝ আকাশে রাস্তা খুঁজে পায় কিভাবে? মাঝ আকাশে পাইলটরা রাস্তা খুঁজে পান বিভিন্ন প্রযুক্তির সাহায্যে। যেমন


জিপিএস, আইএনএস, ভিউআর এবং এটিসি রেডার কমিউনিকেশন। প্লেনের সামনে থাকে একটি বড় স্ক্রিন যেটাকে বলা হয় প্রাইমারি ফ্লাইট ডিসপ্লে। সেখানে প্লেনের বর্তমান অবস্থান, উচ্চতা, গতি ও গন্তব্য দেখায়। আর প্রতিটি সময় পাইলটরা এটিসি এর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলে। যেন কোন সময় কোন ভুল পথে চলে না যায়। একটি প্লেন কি ধরনের ফুয়েল ব্যবহার করে। বেশিরভাগ কমার্শিয়াল প্লেন জেট ফুয়েল ব্যবহার করে যাকে বলা হয় এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল বা জেট এওয়ান। এই ফুয়েল ক্যারোসিনের মতো। তবে এটা খুব পরিশোধিত। এটা ঠান্ডা আবহাওয়াতেও জমে না। ছোট প্লেনে এভিয়েশন


গ্যাসোলিন বা এভি গ্যাস ব্যবহার করা হয় যা পেট্রোলের মত। প্লেনের ফুয়েল ট্যাংক এর ডানায় আর মাঝখানে থাকে। একটা বোইং 737 এর ট্যাংকে প্রায় 26,000 লিটার ফুয়েল ধরে। ঢাকা থেকে দিল্লি যেতে বোইং প্লেনের ফুয়েল খরচ কত? ঢাকা থেকে দিল্লির দূরত্ব প্রায় 1425 কিলোমিটার। একটা বোইং 737800 এই যাত্রায় প্রায় দুই ঘন্টা সময় নেয়। গড় এই প্লেন প্রতি ঘন্টায় 2500 থেকে 3000 লিটার ফুয়েল খরচ করে। তাহলে মোট ফুয়েল খরচ হবে প্রায় 5000 থেকে 6000 লিটার। যার মূল্য প্রায়চার থেকে পা লাখ টাকা। তবে টেক অফ আর ল্যান্ডিং এ বেশি ফুয়েল লাগে। এছাড়া বাতাসের দিক প্লেনের


ওজন আর রুটের উপর খরচ বাড়তে বা কমতে পারে। এছাড়াও নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত 30 থেকে 45 মিনিটের ফুয়েল বহন করা হয়। একটি প্লেন চালাতে কি কি নিয়ম মানতে হয়? প্লেন চালানোর জন্য পাইলটদের কঠিন নিয়ম মানতে হয়। প্রি ফ্লাইট চেক। প্লেনের সব সিস্টেম যেমন ইঞ্জিন, ফুয়েল, ইলেকট্রিক চেক করা হয়। ফ্লাইট প্ল্যানিং, রুট, আবহাওয়া, ফুয়েল আর ওজন হিসাব করা হয়। এটিসি কমিউনিকেশন পাইলটরা সবসময় এটিসির সঙ্গে যোগাযোগ রাখে নিরাপত্তা নিয়ম ইমারজেন্সি প্রস্তুতি যেমন ইঞ্জিন ফেল করলে কি করতে হবে আবহাওয়া মনিটরিং ঝড় বা টার্বুলেন্স এড়াতে রাডার ব্যবহার করা


পাইলটদের প্রশিক্ষণেই এসব শেখানো হয় যেন তারা যেকোনো পরিস্থিতি সামলাতে পারে। পাইলটরা কোন ভাষায় কথা বলেন? বিশ্বের সব পাইলট ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের জন্য একটি নির্দিষ্ট ভাষা আছে। আর তা হলো ইংরেজি ভাষা। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ইংরেজি একমাত্র ভাষা যা ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। এমনকি যদি একজন ফ্রেঞ্চ পাইলট চীনে ল্যান্ড করে সেখানকার এটিসির সাথেও তাকে ইংরেজিতেই কথা বলতে হবে। এটা আইসিএও অর্থাৎ ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের নিয়ম। পাইলটরা কি কোড ভাষা ব্যবহার করেন? প্লেন পরিচালনার সময় পাইলটরা কিছু নির্দিষ্ট কোড ব্যবহার করেন।


যেটা দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে বোঝাতে সাহায্য করে। যেমন মেইডে অর্থ বিপদের সংকেত। প্যানপান অর্থ গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা কিন্তু খুব বেশি জরুরি না। রজার অর্থ আপনার কথা বুঝতে পেরেছি। উইলকো অর্থ নির্দেশ মানা হবে। এছাড়াও ফ্লাইট নম্বর, রানওয়ে ক্লিয়ারেন্স, এলটিউড রিপোর্টিং সবকিছুই নির্দিষ্ট শব্দ এবং ধাঁচে বলা হয় যেন ভুল না হয়। একজন পাইলটকে শুধু প্লেন চালানো নয় বরং একটা ভেসে থাকা শহরের দায়িত্ব নিতে হয়। প্রতি মুহূর্তে তার চোখ থাকতে হয় ইন্স্ট্রুমেন্টে। কান থাকতে হয় এটিসির নির্দেশে। আর মাথা ঠান্ডা রাখতে হয় যেকোন বিপদের সময়ও। তাদের


প্রশিক্ষণ চলে বছরের পর বছর। আর এজন্যই প্লেন চালানোকে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে দায়িত্বশীল পেশাগুলোর একটি। আকাশের কোন রাস্তা নেই। কিন্তু প্রযুক্তি, দক্ষতা আর নিয়মানুবর্তিতার মাধ্যমে প্রতিটি প্লেন সঠিকভাবে পৌঁছে যায় তার গন্তব্যে। এবার যখন আপনি প্লেনে উঠবেন তখন জানবেন এর পেছনে রয়েছে অনেক বিজ্ঞান, নিয়ম আর মানুষদের নিরলস পরিশ্রম। ব্লগ পোস্টটি ভালো লাগলে লাইক দিন, শেয়ার করুন এবং আমাদের www.mahabishwatvnews.com ব্লগার পত্রিকা ওয়েবসাইটটিকে সাবস্ক্রাইব করে পাশে থাকুন।


শেষকথা :


আমাদের এই mahabishwatvnews.com পত্রিকা ওয়েবসাইটে প্রতিনিয়ত যে নিউজ বা শিক্ষনীয় ব্লগ পোস্ট করা হয় ঠিক তেমনই আজকের এই শিক্ষনীয় আর্টিকেলটি আশাকরি আপনাদের অনেক উপকারে আসছে। 🫣


আর হ্যাঁ আজকের আর্টিকেলটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার বন্ধুবান্ধবদের সাথে পোস্টটি শেয়ার করবেন,যাতে তারাও এই শিক্ষণীয় আর্টিকেলটি পড়ে "প্লেন আকাশে রাস্তা খুঁজে পায় কিভাবে? জানুন বিমানের গন্তব্য নির্ধারণের রহস্য!" সম্পর্কে জেনে উপকৃত হতে পারে।


আরও পোস্ট পড়ুন-


দেশের বাজারে 5G ফোনের ছড়াছড়ি || Realme 15T শুধু কি নামেই 5G!


Realme C75 Full Review || চট করে কিনে ফেলার আগে যা আপনার অবশ্যই জানা উচিত!


Realme C85 Pro Review || AMOLED,7000 mAh ছাড়া আর কি আছে! 


realme 15 Pro Review in Bengali || চকচকে রিয়ালমি!


Realme 14 5G Rrview || এটা কি আসলেই গেমিং ফোন!




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন