জয়পাল জাদুগর যার নাম শুনলেই তৎকালীন ভারতবর্ষে শিশু থেকে বৃদ্ধা সবাই ভয়ে আতঙ্কে কাঁপতো। কেননা জয়পাল তন্ত্র মন্ত্র ও কালা জাদু করত। বহু বছর গোপনে রহস্যময় পাহাড়ের গুয়ায় বসে কালা জাদুর সাধনা করে সে বড় জাদুগার হয়েছিল। কালো জাদুর এমন ভয়ঙ্কর ক্ষমতা রাখত যে তার সাথে মোকাবেলা করার মত কারোর ক্ষমতা ছিল না। তখনও ভারতবর্ষের মাটিতে ইসলাম ধর্মের আলো পৌঁছায়নি। মানুষ অন্ধবিশ্বাসে ডুবে থাকতো। কেউ পাথরের মূর্তিকে ঈশ্বর ভাবতো। কেউ আগুনকে আবার কেউ গাছকে। বিশেষ করে রাজধানীর বিখ্যাত আনা সাগরের চারপাশ
যেখানে ছিল শত শত মূর্তি। প্রতিদিন চলত মূর্তিপূজা। আর সেই পূজার সঙ্গে একত্ব হয়েছিল তন্ত্র-মন্ত্র আর কালোজাদুর ভয়ঙ্কর খেলা। রাজা পৃথিরাজ খুবই কঠোরভাবে তার রাষ্ট্র পরিচালনা করতো। তার শাসন ব্যবস্থায় ধর্মীয় রীতিনীতির বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ ছিল না। এদিকে খাজা মইনুদ্দিন চিশতি ইতিমধ্যেই রাজস্থানের আজমরের মাটিতে পা রাখলেন। তিনি এসেছিলেন অন্ধকারে কোরআনের আলো জ্বালাতে। একদিন রাজা পৃথিবীরাজ পূজা আর্চনা শুরু করবে। এমন সময় দূরে তারাগার পাহাড়ের দিক থেকে ভেসে আসছে সুমধুর আজানের ধ্বনি। এই আওয়াজ শুনে তিনি চমকে উঠলেন। এমন শব্দ এমন সুর
রাজা আগে কখনোই শোনেননি। এটা কোন শঙ্খ বা মন্ত্র নয়। রাজা থমকে গেল। অত্যন্ত রেগে গেল। তখনই সৈন্যদের বলল, এই শব্দটা কোথা থেকে আসে? এই শব্দটা কোথা থেকে আসছে? আমার পূজা ব্যহত হচ্ছে। এই আওয়াজ যেন মূর্তির গায়ে লাগছে। তোমরা দ্রুত যাও। তারাগার পাহাড়ের দিকে গিয়ে খুঁজে বের করো। সেই আওয়াজের উৎস কোথায়? কে এই সাহস দেখিয়েছে আমাদের পূজাকে ব্যহত করার। রাজার আদেশ পেয়ে কিছু সৈন্য দলবদ্ধ হয়ে ছুটে চলল তারাগার পাহাড়ের দিকে। সেখানে গিয়ে দেখল একজন দরবেশ। তিনি কয়েকজনকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। এটা দেখে তাদের মধ্যে একজন সৈন্য
এগিয়ে গেল এবং বলল, আপনি কে? আর আমাদের পূজা করতে অসুবিধা করছেন কেন? আমাদের পূজার সময় কি এমন আওয়াজ করছেন যা আমাদের রাজা সহ্য করতে পারছে না? খাজা মইনুদ্দিন চিশতি রহমাতুল্লাহ আলাইহি ভদ্র নম্র ভাষায় বললেন, আমার নাম খাজা মইনুদ্দিন চিশতি। আমি আল্লাহর বান্দা। আল্লাহর হুকুমে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশে এখানে এসেছি। হে প্রিয় ভাই, তোমরা কুসংস্কারের মধ্যে পড়ে আছো। এক আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহা নাই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার শেষ রাসূল। আমি তো সেই মহান আল্লাহর হুকুম পালন করছি। তোমাদের তো কোন অসুবিধা
হওয়ার কথা নাই। তাছাড়া এই মূর্তি তোমাদের কোন উপকার করতে পারবে না। এখনো সময় আছে। মূর্তি পূজা ছেড়ে দিয়ে এক আল্লাহর ইবাদত করো। এই কথা শুনে সৈন্যবাহিনী বলল। দেখুন আপনি এখান থেকে চলে যান। নয়তো আমাদের রাজা জানতে পারলে আপনাকে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। এই কথা বলে সেনাসহিনরা আবারো রাজদরবারের দিকে ফিরে আসতে লাগল। রাজদরবারে এসে রাজা পৃথ্তিরাজকে সমস্ত কথা খুলে বলল। এই কথা শুনে রাজা পৃথিরাজ প্রচন্ড রেগে গেল। তার মনে একটাই চিন্তা যেভাবেই হোক এই ফকিরকে এখান থেকে সরাতে হবে। নয়তো আমাদের হিন্দু ধর্ম বিলপ্ত হয়ে যাবে। কিন্তু তিনি কিছু
বললেন না। চুপ থাকলেন। পরের দিন রাজা পৃথিরাজ এক ভীষণ বড় পূজার আয়োজন করেছে। অন্যদিকে খাজা মইনুদ্দিন চিশস্তি লোকেদের মাঝে গিয়ে ইসলাম প্রচার করছে। আর এদিকে জয়পাল জাদুকার তার তন্ত্র-মন্ত্র কালা জাদুর সাধনায় ব্যস্ত আছে। পূজা আরম্ভ করবে। ঠিক ওই সময় আবারো দূর থেকে ভেসে এল সেই একই সুমধুর আজানের ধ্বনি। এই আওয়াজ শোনা মাত্রই তারা রেগে লাল হয়ে গেল। রাজা পৃথিরাজ বলল, কার এত বড় সাহস যে বারে বারে আমাদের পূজার সময় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে তোমরা যাও ওই ফকিরকে ধরে আনো রাজা পিতৃত্তিরাজের হুকুম পাওয়া মাত্রই আবারো কয়েকজন সৈন্য দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন
তারাগার পাহাড়ের দিকে। সেখানে গিয়ে দেখল সেই দরবেশ অর্থাৎ খাজা মইনুদ্দিন চিশতি নামাজ অবস্থায় আছেন। আসলেই তারা জানতো না তিনি কি করছেন। তাই তারা সেদিকে এগোতে লাগল। খাজা মইনুদ্দিন চিশতি সালাম ফেরালেন এবং দূর থেকে বললেন তোমরা আর এগিয়েও না ওখানেই দাঁড়াও কিন্তু তারা তা শুনল না তাদের রাজার আদেশ পালন করার জন্য বন্দি করার জন্য এগিয়ে আসতে লাগল তখন খাজা মইনুদ্দিন চিশতি এক মোটা ধুলা নিয়ে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলে তাদের দিকে নিক্ষেপ করতেই এক অলৌকিক ঘটনা ঘটে গেল তাদের মধ্যে কেউবা বদির কেউবা অন্ধ কেউবা চিৎকার করে উঠল এটা দেখে সবাই ভাই
দৌড়ে পালালো। এই খবর সাথে সাথেই রাজ দরবারে পৌঁছে গেল। রাজা পৃথিবীরাজ প্রচন্ড রেগে গেল। সে বলতে লাগলো, কার এমন সাহস আমাদের মোকাবেলা করার যেভাবেই হোক তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে। তখন মন্ত্রী বলল, রাজামশাই তার ক্ষমতা দেখে মনে হয় সে সাধারণ কোন মানুষ নয়। সে এক জাদুকর। না হলে এক মোটা ধুলার দ্বারা মানুষকে অন্ধ ও বধির করে দিতে পারে। তাকে হারাতে গেলে আমাদের অন্য প্রান্তা অবলম্বন করতে হবে। ওই দরবেশ আমাদের চরম শত্রু। সে আমাদের ধর্মকেও ছোট করতে চাই। তখন রাজা পৃথিবীরাজ বলল, মন্ত্রী মশাই তাহলে কি করা উচিত? তখন
মন্ত্রী বলল, রাজা মশাই তার সাথে মোকাবেলা করার জন্য জয়পাল জাদুকরের দরকার। একমাত্র সেই তাকে হারাতে পারবে। অতঃপর রাজা পৃথিরাজ কয়েকজন সেনাকে বলল, তোমরা যাও। জয়পাল জাদুকরকে বলো রাজা তোমাকে তলব করেছে। এই হুকুম পাওয়া মাত্রই সাথে সাথে সেনা সৈন্যবাহিনী জয়পাল জাদুকরের কাছে যেতে লাগলো। এদিকে জয়পাল জাদুকর তার কালা জাদু ও তন্ত্রমন্ত্রের সাহায্যে উড়ে উড়ে এদিকে ওদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আসলেই সে তার জাদু সাহায্যে এমন শক্তি অর্জন করেছিল। অতঃপর রাজার সৈন্যবাহিনী জয়পাল জাদুকারের কাছে এসে দেখল তার তন্ত্র-মন্ত্র ও কালা
জাদুতে গভীর ধ্যানে মগ্ন আছেন। কিছুক্ষণ পর জয়পাল জাদুকর বলল, কি ব্যাপার? তোরা এখানে কেন? সেনাবাহিনীরা বলল, মহাশয় আপনাকে রাজা তলব করেছে। তখন জয়পাল জাদুকর বলল, ঠিক আছে চিন্তা করো না। আমি এখনই রওনা হচ্ছি। অতঃপর জয়পাল জাদুকর তার জাদুর সাহায্যে রাজ দরবারের দিকে আসতে লাগলো এবং সৈন্যবাহিনী তার পিছু পিছু আসতে লাগলো। রাজদরবারে এসে জয়পাল জাদুকর বলল, রাজা মশাই আপনি আমাকে ডেকেছেন কেন? তখন রাজা পৃথিরাজ বলল, জয়পাল ভীষণ বিপদে আছি। কোথা থেকে এক জাদুকার এসেছে আমাদেরকে একের পর এক ক্ষতি করছে। আর হিন্দু ধর্মকে
অপমানিত করছে। সে বলছে হিন্দু ধর্ম নাকি কুসংস্কার। এই মূর্তি আমাদের কিছু করতে পারবে না। তুমি কি এটা মেনে নিতে পারবে? তুমি কি চাও তোমাকে কেউ পরাজিত করবে? এই কথা শোনা মাত্রই জয়পাল জাদুকর অত্যন্ত রেগে গেল। সে বলল, আমার চেয়ে বড় জাদুকর এই ভারতে কেউ নেই। আমাকে হারাবে সে খেয়ে আর ভারত থেকে হিন্দু ধর্ম মুছে ফেলে দেবে। এত সাহস কার হয়েছে? রাজামশাই আপনি চিন্তা করবেন না। আমি তার মোকাবেলা করব। আমি তাকে শেষ করে দেব। এই কথা শেষ হতে না হতেই জয়পাল জাদুকর খাজা মইনুদ্দিন চিশতি রহমাতুল্লাহ আলাইহিকে খুঁজতে লাগলো। এদিকে
খাজা মইনুদ্দিন চিশতি কয়েকজন মুরিদকে নিয়ে এক স্থানে বসেছিলেন। তিনি বললেন, নামাজের সময় হয়ে গিয়েছে। আযান দাও। নামাজ আদায় করো। একজন আযান দিতে শুরু করল। তখন তারা সবাই নামাজের অবস্থান করবে। ঠিক এমন সময় দেখল জয়পাল জাদুঘর আকাশের উপরে দিয়ে তাদের দিকে উড়ে আসছে। এটা দেখে একজন বলল হুজুর এই জাদুকর তো আমাদের ক্ষতি করবে। শুনেছি তার জাদুর অনেক শক্তি আছে। তখন খাজা মইনুদ্দিন চিশতি রহমাতুল্লাহ আলাইহি বললেন, তোমরা চিন্তা করো না। আল্লাহ আমাদেরকে রক্ষা করবে। এখন আল্লাহর হুকুম পালন করো। নামাজ আদায় করো। এই কথা বলার পর নামাজ শুরু করলেন।
অন্যদিকে জয়পাল জাদুকর দূর থেকে দেখল কয়েকজন অজানা ব্যক্তি কি এক সাধনা করছে। কিন্তু সে কিছু বুঝতে পারছে না। এটা দেখে সে একটু এগিয়ে এল। এবার সে বুঝতে পেরেছে রাজা যার কথা বলেছে এই সেই দরবেশ। এটা দেখে প্রতিশোধের আগুনে সে জ্বলে উঠলো। কিন্তু সে লক্ষ্য করে দেখল তারা তার দিকে তাকাচ্ছে না। এক ধ্যানে যেন কারো পূজা করছে বা সাধনা করছে। তখন সে মনে মনে বলল এই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে হবেই। এখনই তাদের শেষ করে দিতে হবে। অতঃপর এক স্থানে দাঁড়িয়ে তার তন্ত্র-মন্ত্র কালা জাদুর সাহায্যে তাদের দিকে এক আগুনের গোলা নিক্ষেপ করল। কিন্তু সে দেখল তার মত এত
বড় জাদুঘরের আগুনের গোলা ওই দরবেশের কাছে যেতেই সাথে সাথে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। এটা দেখে জয়পাল জাদুকর আরো রেগে গেল। তখন আবারো এক কালা জাদুর সাহায্যে ধুলাঝড় তাদের দিকে নিক্ষেপ করল। কিন্তু কি আশ্চর্যের বিষয় খাজা মইনুদ্দিন চিশতি রহমাতুল্লাহ আলাইহির কাছে আসতেই আবার নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। এবার জয়পাল জাদুকার বুঝতে পেরেছে সে সাধারণ কোন জাদুকার নয়। তখন তার সমস্ত শক্তি ব্যবহার করে এক ভীষণ কালো জাদু নিক্ষেপ করল। অসংখ্য বিষধর সাপ ছেড়ে দিল। কিন্তু কি আশ্চর্যের বিষয় আল্লাহর কি রহমত? খাজা মইনুদ্দিন চিশতি রহমাতুল্লাহ আলাইহির কাছে আসা মাত্রেই একে
একে নষ্ট হয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। অতঃপর জয়পাল জাদুকর ভালো করে লক্ষ্য করে দেখল ওই দরবেশ হঠাৎ খাজা মইনুদ্দিন চিশতি তার দিকে একবার তাকালোই না কিন্তু তারপরও তার কালা জাদু তার কাছে মোকাবেলা করতে পারছে না তখন সে চালাকি করল সে মনে মনে বলতে লাগল সামনে থেকে নয় পিছন থেকে মারতে হবে অতঃপর জয়পাল জাদুকার পিছনের দিকে এগিয়ে এসে তারাগার পাহাড়ের একদম চুড়া থেকে তার কালা জাদুর সাহায্যে এক বিশাল ভয়ঙ্কর ভয়ংকর পাথর তুলে খাজা ময়নুদ্দিন চিশতি রহমাতুল্লাহ আলাইহির দিকে ছুড়ে মারলো। ঠিক সেই মুহূর্তে খাজা ময়নুদ্দিন চিশতি
রহমাতুল্লাহ আলাইহে তার নামাজ শেষ করে সবেমাত্র সালাম ফিরিয়েছেন। আর তখনই দেখলেন পাহাড় থেকে গড়িয়ে আসছে এক ভয়ঙ্কর বিশাল পাথর। যেটা তার দিকে দ্রুত গতিতে ছুটে আসছে। তখন খাজা মইনুদ্দিন চিশতি রহমাতুল্লাহ আলাইহি শুধু আকাশের দিকে চেয়ে বললেন, হে পাথর তুমি যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে এসে থাকো তাহলে এসো আমার চাপা দিয়ে মেরে ফেলো। কিন্তু যদি তুমি শয়তানের পক্ষ থেকে এসে থাকো তাহলে আল্লাহর হুকুমে সেখানেই থেমে যাও। এই কথা বলার সাথে সাথেই আল্লাহর হুকুমে পাথরের জবান খুলে গেল। পাথর বলতে লাগলো ইয়া খাজা গরীবে নেওয়াজ। আমি শয়তানের পক্ষ থেকে
এসেছি। আমাকে ক্ষমা করুন। আমায় রক্ষা করুন। তখন খাজা মনুদ্দিন চিশতি ওই পাথরের দিকে দুটি আঙ্গুল ইশারা করল। আর সাথে সাথেই পাথর ওখানেই দাঁড়িয়ে পড়ল। সেই থেকে এখনো পর্যন্ত সেই পাথর আজও দাঁড়িয়ে আছে তারাগার পাহাড়ে। প্রমাণ হয়ে আছে ইতিহাসের। এটা আল্লাহর কুদরত। খাজা মইনুদ্দিন চিশতির অলৌকিক ক্ষমতা জয়পাল জাদুকার স্বচক্ষে এই ঘটনা দেখার পর বিস্ময় হতবাক হয়ে গেল। সে বুঝতে পারল তার সাথে মোকাবেলা করার ক্ষমতা কারোর নেই। এবার সে ভয়ে পালাতে লাগল। তখন খাজা মইনুদ্দিন চিশতি রহমাতুল্লাহ আলাইহি তার জুতাকে বলল, যাও তাকে এখানে ধরে নিয়ে
আসো। অতঃপর জুতাগুলি বাতাসে উড়ে গেল। জয়পাল জাদুকরকে ঘিরে ফেলল। সে আর কোনদিকেই যেতে পারলো না। অবশেষে জয়পাল জাদুকর খাজা ময়নুদ্দিন চিশতির কাছে এসে বলল, আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমি জানিনা আপনি কে? এখনো পর্যন্ত আমাকে কেউ হারাতে পারেনি। কিন্তু আপনার কাছে আজ আমি হার স্বীকার করলাম। জয়পাল জাদুকর এমন কাকুতি মিনতি করে ক্ষমা চাইছে যে খাজা মরিজিন চিশতি আর থাকতে পারলেন না। তাকে ক্ষমা করে দিল। তখন জয়পাল জাদুকর বলল, আপনি কে? এমন দয়ালু আমি আপনাকে হত্যা করতে চেয়েছিলাম। তারপরেও আপনি আমাকে ক্ষমা করলেন। তখন খাজা
মইনুদ্দিন চিশতি বলল, স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন অসীম দয়ালু। আমাদের প্রিয় রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি দয়ালু। তিনিও দয়ালু। আমি তো আল্লাহর বান্দা। প্রিয় রাসূলের অনুসারী। তাহলে আমি কেন ক্ষমা করবো না? জয়পাল আল্লাহর পথে এসো। আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নাই। তিনি এক এবং অদ্বিতীয়। জয়পাল। তোমরা যে পূজা করছো এটা কুসংস্কার। পূজা ছেড়ে দিয়ে এক আল্লাহর এবাদত করো। তখন জয়পাল জাদুকর বলল, হুজুর আজ থেকে আমি আপনার অনুসারী। আমাকে কলেমা পড়িয়ে মুসলমান করে দিন। আমি যতদিন থাকবো এক আল্লাহর এবাদত করব।
জাদুবিদ্যা তন্ত্র মন্ত্র সব ছেড়ে দিয়ে আপনার দেখানো আল্লাহর দেখানো পথে এবং আপনার নির্দেশ অনুসারে চলবো। তখন জাদুকর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন। ইতিহাসের পাতায় লেখা আছে পরবর্তীকালে জয়পাল জাদুকর নাম পরিবর্তন করে নাম রেখেছিলেন আব্দুল্লাহ রিয়াবানী। শোনা যায় পরবর্তীকালেও তিনি একজন অলি হিসেবে সুনাম অর্জন করেছিলেন। অতঃপর পরের দিন থেকে সারা ভারতে এই খবর ছড়িয়ে পড়ল যে ভারতবর্ষের সবচেয়ে বড় জাদুকর জয়পাল ইসলাম ধর্ম কবুল করেছে। খাজা মইনুদ্দিন চিশতির মুরিদ হয়েছে। এটা দেখে সবাই অবাক হয়ে গেল। একে একে একে একে
খাজা মইনুদ্দিন চিশতি রহমাতুল্লাহ আলাইহির কাছে আসতে লাগলো। এদিকে এক সেনা রাজা পৃথিরাজের কাছে এসে বলল রাজামশাই সর্বনাশ হয়ে গেছে। রাজা বলল কি হয়েছে? তখন এই সেনা বলল, রাজামোশায় জয়পাল জাদুকর ওই ফকিরের কাছে হার স্বীকার করেছে। সে নিজে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম নামক ধর্মে দীক্ষিত হয়েছে। এই কথা শুনে রাজা পৃথিরাজ বলল, যদি এই ধর্মে সত্য হয়ে থাকে তাহলে তার প্রমাণ করতে হবে। আমরা তাকে স্বচক্ষে দেখব। যাও আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় পুরোহিতকে ডেকে আনো। তার সামনেই ওই দরবেশের পরীক্ষা হবে। তোমরা যাও ওই দরবেশকে খবর দাও। তৎকালীন সময়ে ভারতের
অলিগলিতে হিন্দু ভক্তদের কোলাহল। চারিদিকে ঘন্টা শঙ্খ আর মন্ত্র উচ্চারণের আওয়াজ ছাড়া কিছুই ছিল না। এই শহরের কেন্দ্রস্থলে বাস করতেন একজন হিন্দু পুরহিত। তিনি ছিলেন এতটাই বিখ্যাত যে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ তার পূজা নিতে আসতো। তিনি এক নিষ্ঠ ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে মূর্তি পূজা করতেন। সে বিশ্বাস করত মূর্তি ঈশ্বর। একদিন ওই পুরোহিত মূর্তি পূজা করার জন্য মন্দিরের দিকে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ পথের মাঝে কয়েকজন লোককে দাঁড়িয়ে ফিসফিস করতে দেখে পুরোহিত থমকে গেল। তাই সে তাদের কাছে এগিয়ে এসে বলল, তোমরা কি জানো না পূজার সময় হয়ে গিয়েছে। সবাই
মন্দিরে না গিয়ে এখানে কি করছো? সেই সময় একজন বলল পুরোহিত মশাই আপনি কি কিছু শুনছেন না? তখন পুরোহিত বলল কি এমন কথা বলুন তো তারা বললেন শুনেছি আজমিরে কোথা থেকে এক দরবেশ এসেছেন। তিনি এমন এক শক্তির অধিকারী যে ভারতের শ্রেষ্ঠ জাদুঘর জয়পালও তার সামনে হার মেনেছে। তিনি বলেন, আল্লাহ এক আর তার হুকুমে পাথরও কথা বলে। এই কথায় অনেকেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। পুরোহিত এই কথা শুনে খুব রেগে গেল। সে বলল এটা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। বহু প্রাচীনকাল থেকে ভারতের মানুষ মূর্তি পূজা করে আসছে। আর এখন তা মৃত্যু হয়ে গেল।
এখনই রাজা পিতৃরাজের কানে এই খবর পৌঁছে দিতে হবে। এই বলে মন্দিরের দিকে রওনা হলো। কিন্তু রাজার কাছে যাওয়ার আগেই রাজার সেনাবাহিনী ওই পুরোহিতের কাছে এসে বলল পুরোহিত মশাই রাজা আপনাকে এক্ষুনি ডেকেছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা করবেন অতঃপর ওই পুরোহিত আর দেরি করলেন না সঙ্গে সঙ্গে রাজদরবারে হাজির হলেন রাজ সিংহাসনে বসে আছেন রাজা পৃথিরাজ চারপাশে সেনাপতি মন্ত্রীপরিষদ ও বিশিষ্ট পন্ডিত বর্গ তখন রাজা পৃথিরাজ তাকে বলল পুরোহিত মশাই আমাদের ধর্ম এখন সংকটের মুখে। এক দরবেশ শহরে এসে বলছে মূর্তি মিথ্যা আল্লাহ সত্য।
সে এমন অলৌকিক ক্ষমতা দেখিয়েছে যে জয়পাল জাদুও তার কাছে নত হয়েছে। আপনি আমাদের গর্ব একমাত্রই আপনিই পারবেন আমাদের ধর্মকে রক্ষা করতে। আমাদের সম্মান ইজ্জত রক্ষা করতে। তখন পুরোহিত বলল, রাজা মশাই এ অপমান আমি সহ্য করবো না। ওই ফকির যদি সত্যি কিছু জানে তাহলে সে মূর্তিকে কথা বলিয়ে দেখাক। আমরা দেখে নেব কার দেবতা সত্য। রাজা বললেন, তাই হোক আমরা তাকে পরীক্ষা নিতে ডাকবো। যদি সে জয়ী হয়, আমরা মেনে নেব। না হলে তাকে বিতাড়িত করা হবে। অতঃপর রাজা পৃথিবীরাজের এক সেনা খাজা মইনুদ্দিন চিশতির কাছে এসে বলল, আপনি নাকি বড় জাদুকর। আপনি বলছেন মূর্তি আমাদের কোন
উপকার করতে পারবে না তাহলে আপনাকে পরীক্ষা দিতে হবে আমাদের পুরোহিত ও রাজামশাই আপনাকে ডেকেছে আপনি যদি ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারো তাহলে আমরা মেনে নেব আপনার কথাই সত্য তখন খাজা মইনুদ্দিন চিশতি বলল ঠিক আছে আমি এই পরীক্ষা দিতে প্রস্তুত তোমাদের রাজাকে গিয়ে বল পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে সেই খবর আজমরের শহরে আগুনের মত ছড়িয়ে পড়ল সবাই একে একে জমে যায় মন্দিরে চত্তরে পুরোহিত ও রাজা পৃথিরাজ সেখানে হাজির হয়েছে। এদিকে খাজা মইনুদ্দিন চিস্তি কয়েকজন মুরিদকে নিয়ে সেখানে হাজির হয়েছে। হিন্দু মুসলিম দেখতে চায় এ অলৌকিক প্রতিদ্বন্দিতা আর মন্দিরের
মাঝখানে বসানো হয়েছে এক বিশাল পাথরের মূর্তি। তারপর পুরোহিত তাকে দেখে তিরস্কার ভরে বলল। তুমি নাকি মূর্তি পূজা মানো না। শুনেছি তুমি বড় জাদুঘর। তুমি বলেছ মূর্তি আমাদের কোন উপকার করতে পারবে না ঠিক আছে তাহলে তোমার শক্তি দেখাও তখন খাজা মনিউদ্দিন চিশস্তি সেই পুরোহিতকে বলল আমার কোন শক্তি নেই আমি তো আল্লাহর বান্দা আল্লাহ যদি চাই তবে এই পাথর আজ নিজেই সাক্ষী দেবে সে মিথ্যা আল্লাহর নাম শুনে পুরোহিতের গা জ্বলে উঠলো সে চিৎকার করে বলল আজ যদি আল্লাহ সত্য হয় তো প্রমাণ করো আমাদের মূর্তি যদি আল্লাহর নাম উচ্চারণ
করে তবেই আমরা মানবো আর যদি না করে তবে মেনে নেবো না। আর তোমাকে চিরতরে শহর ছেড়ে দিতে হবে। তখন খাজা ময়নুদ্দিন চিশতি ধীরে ধীরে সেই বিশাল মূর্তির সামনে এগিয়ে গেলেন। আর উচ্চস্বরে বলল, হে পাথরের মূর্তি, আমার নাম খাজা ময়নুদ্দিন চিশতি, আমি আল্লাহর বান্দা। আল্লাহর হুকুমে তুমি সাক্ষ্য দাও যে আল্লাহ এক এবং অদ্বিতীয়। আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নাই এবং তুমি মিথ্যা। এই কথা বলার সাথে সাথে এমন এক অলৌকিক ঘটনা ঘটলো যা বদলে দিয়েছিল সমগ্র ভারতবাসীকে। মুহূর্তের মধ্যেই আকাশে বজ্জরের শব্দ। জমিন কেঁপে উঠলো আর সেই পাথরের বিশাল মূর্তিটি আওয়াজ করে বলে
উঠলো আল্লাহ এক এবং অদ্বিতীয়। আল্লাহই এই বিশ্বজগতের পালনকর্তা। আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নাই। এই কথা বলার সাথে সাথে মূর্তিটি ভেঙে পড়ল। চোখের সামনে এমন অলৌকিক ঘটনা দেখার পর সেখানে উপস্থিত থাকা সমস্ত হিন্দু বিস্ময় হতভাগ হয়ে গেল। খাজা ময়নুদ্দিন চিস্তির দিকে এক দৃষ্টিতে চেয়ে রইল। তারা কোন কথা বলতেই পারল না। একজন বলে উঠলো ইয়া খাজা। আপনি সত্যের প্রদীপ নিয়ে এসেছেন। আমাদের চোখ খুলে গেছে। আর একজন মনের অজান্তেই তারা বলে উঠলো ইয়া খাজা মইনুদ্দিন চিশতি। আজ থেকে আমাদের চোখ খুলে গেল আল্লাহ সত্য। আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নাই। আমাদের সকলকে আপনি
ইসলাম ধর্ম কবুল করিয়ে দিন। আর এভাবেই একে একে সেদিন বহু মানুষ কলেমা পড়ে মুসলমান হয়েছিল। প্রিয় দর্শক এই সমস্ত ঘটনা আনিস আল আরওয়া সিয়ার আল আকতাব নামক গ্রন্থে যা ফারসি ভাষায় অন্যতম প্রাচীন জীবনী যা খাজা বাবার একজন নিকট সহচর্যের মুরিদ লিখেছিলেন বলে জানা যায়। প্রিয় দর্শক, খাজা মইনুদ্দিন চিশতি রহমাতুল্লাহ আলাইহি ছিলেন এমন এক আল্লাহর ওলি যিনি কখনোই নিজেকে বড় মনে করেননি। বরং নিজেকে মনে করতেন দরিদ্র নত। আল্লাহর ক্ষুদ্র এক দাস। আর সেই বিনয় সেই ভালোবাসাই তাকে বানিয়েছে হিন্দুস্তানের এক মহামানব।
খাজা মইনুদ্দিন চিশতি রহমাতুল্লাহ আলাইহির কাছে আসতে লাগলো। এদিকে এক সেনা রাজা পৃথিরাজের কাছে এসে বলল রাজামশাই সর্বনাশ হয়ে গেছে। রাজা বলল কি হয়েছে? তখন এই সেনা বলল, রাজামোশায় জয়পাল জাদুকর ওই ফকিরের কাছে হার স্বীকার করেছে। সে নিজে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম নামক ধর্মে দীক্ষিত হয়েছে। এই কথা শুনে রাজা পৃথিরাজ বলল, যদি এই ধর্মে সত্য হয়ে থাকে তাহলে তার প্রমাণ করতে হবে। আমরা তাকে স্বচক্ষে দেখব। যাও আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় পুরোহিতকে ডেকে আনো। তার সামনেই ওই দরবেশের পরীক্ষা হবে। তোমরা যাও ওই দরবেশকে খবর দাও। তৎকালীন সময়ে ভারতের
অলিগলিতে হিন্দু ভক্তদের কোলাহল। চারিদিকে ঘন্টা শঙ্খ আর মন্ত্র উচ্চারণের আওয়াজ ছাড়া কিছুই ছিল না। এই শহরের কেন্দ্রস্থলে বাস করতেন একজন হিন্দু পুরহিত। তিনি ছিলেন এতটাই বিখ্যাত যে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ তার পূজা নিতে আসতো। তিনি এক নিষ্ঠ ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে মূর্তি পূজা করতেন। সে বিশ্বাস করত মূর্তি ঈশ্বর। একদিন ওই পুরোহিত মূর্তি পূজা করার জন্য মন্দিরের দিকে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ পথের মাঝে কয়েকজন লোককে দাঁড়িয়ে ফিসফিস করতে দেখে পুরোহিত থমকে গেল। তাই সে তাদের কাছে এগিয়ে এসে বলল, তোমরা কি জানো না পূজার সময় হয়ে গিয়েছে। সবাই
মন্দিরে না গিয়ে এখানে কি করছো? সেই সময় একজন বলল পুরোহিত মশাই আপনি কি কিছু শুনছেন না? তখন পুরোহিত বলল কি এমন কথা বলুন তো তারা বললেন শুনেছি আজমিরে কোথা থেকে এক দরবেশ এসেছেন। তিনি এমন এক শক্তির অধিকারী যে ভারতের শ্রেষ্ঠ জাদুঘর জয়পালও তার সামনে হার মেনেছে। তিনি বলেন, আল্লাহ এক আর তার হুকুমে পাথরও কথা বলে। এই কথায় অনেকেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। পুরোহিত এই কথা শুনে খুব রেগে গেল। সে বলল এটা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। বহু প্রাচীনকাল থেকে ভারতের মানুষ মূর্তি পূজা করে আসছে। আর এখন তা মৃত্যু হয়ে গেল।
এখনই রাজা পিতৃরাজের কানে এই খবর পৌঁছে দিতে হবে। এই বলে মন্দিরের দিকে রওনা হলো। কিন্তু রাজার কাছে যাওয়ার আগেই রাজার সেনাবাহিনী ওই পুরোহিতের কাছে এসে বলল পুরোহিত মশাই রাজা আপনাকে এক্ষুনি ডেকেছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা করবেন অতঃপর ওই পুরোহিত আর দেরি করলেন না সঙ্গে সঙ্গে রাজদরবারে হাজির হলেন রাজ সিংহাসনে বসে আছেন রাজা পৃথিরাজ চারপাশে সেনাপতি মন্ত্রীপরিষদ ও বিশিষ্ট পন্ডিত বর্গ তখন রাজা পৃথিরাজ তাকে বলল পুরোহিত মশাই আমাদের ধর্ম এখন সংকটের মুখে। এক দরবেশ শহরে এসে বলছে মূর্তি মিথ্যা আল্লাহ সত্য।
সে এমন অলৌকিক ক্ষমতা দেখিয়েছে যে জয়পাল জাদুও তার কাছে নত হয়েছে। আপনি আমাদের গর্ব একমাত্রই আপনিই পারবেন আমাদের ধর্মকে রক্ষা করতে। আমাদের সম্মান ইজ্জত রক্ষা করতে। তখন পুরোহিত বলল, রাজা মশাই এ অপমান আমি সহ্য করবো না। ওই ফকির যদি সত্যি কিছু জানে তাহলে সে মূর্তিকে কথা বলিয়ে দেখাক। আমরা দেখে নেব কার দেবতা সত্য। রাজা বললেন, তাই হোক আমরা তাকে পরীক্ষা নিতে ডাকবো। যদি সে জয়ী হয়, আমরা মেনে নেব। না হলে তাকে বিতাড়িত করা হবে। অতঃপর রাজা পৃথিবীরাজের এক সেনা খাজা মইনুদ্দিন চিশতির কাছে এসে বলল, আপনি নাকি বড় জাদুকর। আপনি বলছেন মূর্তি আমাদের কোন
উপকার করতে পারবে না তাহলে আপনাকে পরীক্ষা দিতে হবে আমাদের পুরোহিত ও রাজামশাই আপনাকে ডেকেছে আপনি যদি ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারো তাহলে আমরা মেনে নেব আপনার কথাই সত্য তখন খাজা মইনুদ্দিন চিশতি বলল ঠিক আছে আমি এই পরীক্ষা দিতে প্রস্তুত তোমাদের রাজাকে গিয়ে বল পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে সেই খবর আজমরের শহরে আগুনের মত ছড়িয়ে পড়ল সবাই একে একে জমে যায় মন্দিরে চত্তরে পুরোহিত ও রাজা পৃথিরাজ সেখানে হাজির হয়েছে। এদিকে খাজা মইনুদ্দিন চিস্তি কয়েকজন মুরিদকে নিয়ে সেখানে হাজির হয়েছে। হিন্দু মুসলিম দেখতে চায় এ অলৌকিক প্রতিদ্বন্দিতা আর মন্দিরের
মাঝখানে বসানো হয়েছে এক বিশাল পাথরের মূর্তি। তারপর পুরোহিত তাকে দেখে তিরস্কার ভরে বলল। তুমি নাকি মূর্তি পূজা মানো না। শুনেছি তুমি বড় জাদুঘর। তুমি বলেছ মূর্তি আমাদের কোন উপকার করতে পারবে না ঠিক আছে তাহলে তোমার শক্তি দেখাও তখন খাজা মনিউদ্দিন চিশস্তি সেই পুরোহিতকে বলল আমার কোন শক্তি নেই আমি তো আল্লাহর বান্দা আল্লাহ যদি চাই তবে এই পাথর আজ নিজেই সাক্ষী দেবে সে মিথ্যা আল্লাহর নাম শুনে পুরোহিতের গা জ্বলে উঠলো সে চিৎকার করে বলল আজ যদি আল্লাহ সত্য হয় তো প্রমাণ করো আমাদের মূর্তি যদি আল্লাহর নাম উচ্চারণ
করে তবেই আমরা মানবো আর যদি না করে তবে মেনে নেবো না। আর তোমাকে চিরতরে শহর ছেড়ে দিতে হবে। তখন খাজা ময়নুদ্দিন চিশতি ধীরে ধীরে সেই বিশাল মূর্তির সামনে এগিয়ে গেলেন। আর উচ্চস্বরে বলল, হে পাথরের মূর্তি, আমার নাম খাজা ময়নুদ্দিন চিশতি, আমি আল্লাহর বান্দা। আল্লাহর হুকুমে তুমি সাক্ষ্য দাও যে আল্লাহ এক এবং অদ্বিতীয়। আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নাই এবং তুমি মিথ্যা। এই কথা বলার সাথে সাথে এমন এক অলৌকিক ঘটনা ঘটলো যা বদলে দিয়েছিল সমগ্র ভারতবাসীকে। মুহূর্তের মধ্যেই আকাশে বজ্জরের শব্দ। জমিন কেঁপে উঠলো আর সেই পাথরের বিশাল মূর্তিটি আওয়াজ করে বলে
উঠলো আল্লাহ এক এবং অদ্বিতীয়। আল্লাহই এই বিশ্বজগতের পালনকর্তা। আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নাই। এই কথা বলার সাথে সাথে মূর্তিটি ভেঙে পড়ল। চোখের সামনে এমন অলৌকিক ঘটনা দেখার পর সেখানে উপস্থিত থাকা সমস্ত হিন্দু বিস্ময় হতভাগ হয়ে গেল। খাজা ময়নুদ্দিন চিস্তির দিকে এক দৃষ্টিতে চেয়ে রইল। তারা কোন কথা বলতেই পারল না। একজন বলে উঠলো ইয়া খাজা। আপনি সত্যের প্রদীপ নিয়ে এসেছেন। আমাদের চোখ খুলে গেছে। আর একজন মনের অজান্তেই তারা বলে উঠলো ইয়া খাজা মইনুদ্দিন চিশতি। আজ থেকে আমাদের চোখ খুলে গেল আল্লাহ সত্য। আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নাই। আমাদের সকলকে আপনি
ইসলাম ধর্ম কবুল করিয়ে দিন। আর এভাবেই একে একে সেদিন বহু মানুষ কলেমা পড়ে মুসলমান হয়েছিল। প্রিয় দর্শক এই সমস্ত ঘটনা আনিস আল আরওয়া সিয়ার আল আকতাব নামক গ্রন্থে যা ফারসি ভাষায় অন্যতম প্রাচীন জীবনী যা খাজা বাবার একজন নিকট সহচর্যের মুরিদ লিখেছিলেন বলে জানা যায়। প্রিয় দর্শক, খাজা মইনুদ্দিন চিশতি রহমাতুল্লাহ আলাইহি ছিলেন এমন এক আল্লাহর ওলি যিনি কখনোই নিজেকে বড় মনে করেননি। বরং নিজেকে মনে করতেন দরিদ্র নত। আল্লাহর ক্ষুদ্র এক দাস। আর সেই বিনয় সেই ভালোবাসাই তাকে বানিয়েছে হিন্দুস্তানের এক মহামানব।
শেষকথা :
আমাদের এই mahabishwatvnews.com পত্রিকা ওয়েবসাইটে প্রতিনিয়ত যে নিউজ বা শিক্ষনীয় ব্লগ পোস্ট করা হয় ঠিক তেমনই আজকের এই শিক্ষনীয় আর্টিকেলটি আশাকরি আপনাদের অনেক উপকারে আসছে। 🫣
আর হ্যাঁ আজকের আর্টিকেলটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার বন্ধুবান্ধবদের সাথে পোস্টটি শেয়ার করবেন,যাতে তারাও এই শিক্ষণীয় আর্টিকেলটি পড়ে "খাজা বাবা ও জয়পালের লড়াই। খাজা বাবার জিন্দা কারামত। ইসলামিক কাহিনী। মহাবিশ্ব টিভি নিউজ" সম্পর্কে জেনে উপকৃত হতে পারে।
আরও পোস্ট পড়ুন-
অত্যাচারী ফেরাউনের অলৌকিক কাহিনী |আল্লাহর আজাব | ইসলামিক কাহিনী। মহাবিশ্ব টিভি নিউজ
গরিব মূর্তিকারের জাদুকরী টিয়া পাখি | Bangla story | bangla cartoon | Bengali Fairy Tales Cartoon
গ্রামে থেকেই লাখের ব্যবসা শুরু করুন! একটাই প্যাকেটের রহস্যে লুকিয়ে আছে কোটি টাকার সুযোগ
কোনো অফিস ছাড়া, কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়া ৫টি ছোট ব্যবসার আইডিয়া | 5 small business ideas
