মদিনায় সেদিন এক অন্যরকম নীরবতা যেন প্রাকৃতিক ও শোকের ভারাক্রান্ত প্রিয় নবীজির অসুস্থতার খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা ছুটে চলেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাড়ির দিকে সেদিন আকাশের চাঁদ যেন ফিকে হয়ে গেছে সাহাবীরা বসে আছেন কারো চোখে অশ্রু কারো বা অন্তর পাথরের মত ভারী হয়ে গেছে কেউ কোন কথা বলছে না শুধু নিঃশব ফুঁপিয়ে কাঁদছে এদিকে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ অবস্থায় নিজ গৃহে আছেন পাশে আছে হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা ও
আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা তখন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন হে আয়েশা আবু বক্করকে খবর পাঠাও কিন্তু তিনি খবর দেওয়ার আগেই ঘরে প্রবেশ করলেন তখন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন হে আবু বক্কর আমি তোমার কাছে আমানত রেখে গেলাম তুমি আমার সাহাবাদের লক্ষ্য রেখো এসব কথা আলোচনা হচ্ছে ঠিক তখনই হঠাৎ করে গৃহের পরিবেশ বদলে গেল একটি অদ্ভুত নূর যেন গৃহের পাশে ছড়িয়ে পড়লো আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা বিস্মিত হয়ে চারিপাশে তাকালেন গৃহের বাইরে এক সুন্দর
সুদর্শন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন দরজার বাইরে কে দাঁড়িয়ে আছে হে ফাতেমা দরজা খুলে দাও হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ আমি তাকে চিনতে পারছি না তিনি এক সুদর্শন সুন্দর ব্যক্তি তখন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তুমি তাকে চিনবে কিভাবে তিনি এমন একজন সুন্দর সুদর্শন ব্যক্তি যেখানে যাই কখনো খালি হাতে ফেরেন না তিনি আর কেউ না তিনি হলেন হযরত আজরাইল ফেরেশতা এই কথা শুনেই হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা চোখ দিয়ে
অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগলো তখন হযরত আজরাইল ফেরেশতা সালাম দিয়ে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করলেন এবং বললেন আসসালামু আলাইকুম ইয়া রাসূলাল্লাহ ইয়া রাহমাতুল্লিল আলামিন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আপনাকে সালাম জানিয়েছেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন ইয়া রাসূলাল্লাহ আপনি অনুমতি দিলে তবেই জান কবজ করব আর নয়তো ফিরে যাব আপনার যতদিন ইচ্ছা ততদিন এই পৃথিবীতে থাকবেন তখন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন হে আজরাইল আলাইহিস সাল্লাম আমার তো আল্লাহর সাথে এখন একটি কথা বাকি আছে ইয়া রাসূলাল্লাহ কি কথা বাকি আছে তখন রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন আমার ভাই জিব্রাইল আলাইহিস সাল্লাম কোথায় আমি তার সাথে সাক্ষাৎ করতে চাই তখন জিব্রাইল আলাইহিস সাল্লাম প্রথম আসমানে ছিলেন এই কথা শোনা মাত্রই হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সাল্লাম প্রথম আসমান থেকে অতি দ্রুত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গৃহে প্রবেশ করলেন ঘরের ভিতরে এক অপার্থিব নূরের আভা ছড়িয়ে পড়লো সেই নূরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সাল্লাম তখন তিনি বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ ওগো আল্লাহর পয়গম্বর আপনি কান্না করেন কেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন
ভাই জিব্রাইল আমি এই কারণে কান্না করছি এই দুনিয়া থেকে চলে যাবার পর আমার গুনাহগার উম্মতের কি হবে তুমি আমার আল্লাহর কাছে এই কথাটুকু একটু জেনে এসো সঙ্গে সঙ্গে হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সাল্লাম আল্লাহর আরশে চলে গেলেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সবকিছুই জানতেন তবুও মহান রব্বুল আলামীন হযরত জিব্রাইল ফেরেশতাকে জিজ্ঞেস করলেন হে জিব্রাইল তুমি কাঁদছো কেন জিব্রাইল আলাইহিস সালাম বললেন ওগো আমার মহান রব আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমি তো তোমার প্রিয় হাবিব রাসূলের জন্যই কাঁদছি আর তোমার প্রিয় রসূল কাঁদছে তার গুনাহগার উম্মতের জন্য তখন মহান রাব্বুল আলামীন
বললেন হে জিব্রাইল যাও যাও তুমি এই সুসংবাদ দাও যে তার চিন্তার কোন কারণ নেই আমার প্রিয় হাবিব তার উম্মতের জন্য যেমন মায়া করে দয়া করে আল্লাহ তার বান্দাদের তেমনি দয়া করে তবে কাল হাশরের ময়দানে প্রিয় হাবিব যতক্ষণ পর্যন্ত খুশি না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত তার উম্মতের গুনাহ মাফ হয়ে যাবে এবং বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে এই সুসংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সাল্লাম অতি দূরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গৃহে প্রবেশ করলেন তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন ভাই জিব্রাইল আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কি বলেছেন তুমি
কাঁদছো কেন হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ ওগো আল্লাহর পয়গম্বর আল্লাহ তোমার জন্য অপেক্ষা করছে আল্লাহ তো সুসংবাদ দিয়েছেন আর আমি কাঁদছি এই কারণে যে আজকের পর থেকে আমি আর কখনোই ওহী নিয়ে আসতে পারবো না এই পৃথিবীতে অনেক নবী রাসূলের কাছে ওহী নিয়ে এসেছি কিন্তু আপনার কাছে তো সবচেয়ে বেশিবার এসেছি আমার আজ বড় কষ্ট হচ্ছে তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফেরেশতাকে সান্ত্বনা দিলেন অতঃপর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আজরাইল আলাইহিস সাল্লামকে অনুমতি দিলেন তখন আজরাইল
ফেরেশতা প্রথমে তার হাত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সিনা মোবারকে রাখলেন তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন ভাই আজরাইল জান কবজের যত কষ্ট আমাকে দাও কিন্তু আমার উম্মতকে দিও না তখন আজরাইল ফেরেশতা বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ আপনাকে চিন্তা করতে হবে না আপনার উম্মতের মধ্যে যে খাঁটি ঈমানদার উম্মত হবে তার এমন ভাবে জান কবজ করা হবে যেন একটি শিশু মায়ের কোলে দুধ পান করতে করতে ঘুমিয়ে যায় ঠিক তেমন মনে হবে একথা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিশ্চিত হলেন এরপর আস্তে আস্তে খুবই ইজ্জতের সাথে এই কাজ শেষ করে
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রুহু মোবারক আল্লাহর আরশে নিয়ে চলে গেল হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা যেন নীরব নিস্তব্ধ বাকরুদ্ধ হয়ে গেল অতঃপর পৃথিবী স্তব্ধ হয়ে গেল মদিনার বাতাস স্থির হয়ে গেল পৃথিবী যেন কিছু মুহূর্তের জন্য থমকে গেল সমগ্র প্রাণীকুল কাঁদতে লাগলো এই সংবাদ খুবই দ্রুত সমগ্র মদিনায় ছড়িয়ে পড়লো এই সংবাদে প্রত্যেক মুসলমানের কলিজা যেন ভেঙে চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে তাদের হৃদয় যেন ছিড়ে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেল সমস্ত মুসলমানের পায়ের নিচে
মাটি যেন সরে গেল দয়ার নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভক্তবৃন্দ আজীবনের সঙ্গী এবং সহচরগণ যারা তাকে নিজের প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন তারা দয়ার নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই সংবাদে অনেকেই বাকরুদ্ধ হয়ে গেল আবার কেউ বা কচি শিশুর মত হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করে একজন সাহাবী আব্দুল ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এই সংবাদ শুনে শোকের দুঃখে কষ্ট সহ্য করতে না পেরে প্রাণ ত্যাগ করলেন এদিকে হযরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু মসজিদে এক কোণে অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলো আমি
কিভাবে আযান দেব আমার জিভা কিভাবে উচ্চারণ করবে সেই নাম যিনি আজ আমাদের মাঝে নেই কেউ তাকে সান্ত্বনা দিতে পারছিল না অতঃপর অসহায় ভাবে পাগলের মত এদিক ওদিক দিক ঘুরতে লাগলো যার সঙ্গে দেখা হচ্ছে তাকে জিজ্ঞাসা করতে লাগলো তোমরা কি আমার দয়ার নবীকে দেখেছো কিন্তু কেউ তাকে কিছুই বলল না কেননা সবারই তো এই একই অবস্থা কে তাকে সান্ত্বনা দেবে এদিকে এই খবর হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর কানে পৌঁছালো হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর মত জ্ঞানী বিচক্ষণ সাহাবী অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে তলোয়ার উঠিয়ে বললেন আমার দয়ার
নবী কখনোই ইন্তেকাল করতে পারে না যে বলবে আমার আমাদের প্রিয় নবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মারা গেছে তাকে তলোয়ার দিয়ে দ্বিখন্ডিত করে দেব তিনি আমাদের ছেড়ে যাননি তিনি আমাদের মাঝেই আছেন সেই সময় হযরত আবু বক্কর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু সেখানে এসে বললেন হে মদিনার মানুষ তোমরা জেনে রাখো শুধুমাত্র আল্লাহ চিরঞ্জীব তিনি কখনোই মারা যান না তিনি মহান তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ এই পৃথিবীতে যত নবী রাসূল এসেছে সবাই একদিন মৃত্যুর সাথে গ্রহণ করতে হয়েছে তেমনি আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আজ সেই স্বাদ গ্রহণ করেছে তবে
তিনি তো বেঁচে আছেন তার পবিত্র কর্মে আমাদের হৃদয়ে অতঃপর প্রতিটি সাহাবী ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলেন সেদিন মদিনার বাতাস ভারী হয়ে গেল মদিনার অলিতে গলিতে কান্নার আওয়াজ ভেসে আসতে লাগলো নারীরা তাদের ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন শিশুরা ভয়ে মায়ের আঁচল চেপে ধরলো পুরুষরা একে অপরের দিকে নিস্তব্ধ হয়ে তাকিয়েছিলেন কেউ যেন বুঝতেই পারছিল না এই বিশাল শূন্যতা কিভাবে পূরণ হবে সেদিন শুধু মানুষ কাঁদেনি কেঁদেছিল এই জমিন এই আসমান এই প্রাণীকুল মদিনার আকাশ যেন সেদিন নিস্তব্ধ হয়ে গেল অতঃপর হযরত আবু বক্কর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু ধীরে ধীরে
প্রিয় নবীজির গৃহের দিকে এগোতে লাগলেন গৃহে প্রবেশ করতেই তিনি দেখলেন এক অলৌকিক প্রশান্তিতে আছে যেন এখানেই জান্নাতে সুবাস মিশে আছে তখন সবাই একপাশে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন তিনি বলে উঠলেন আজ পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দয়ার মানুষটি চলে গেলেন আমরা কিভাবে তার স্মৃতি ছাড়া বেঁচে থাকবো তারপর হযরত আবু বক্কর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র মুখখানা উন্মুগ্ধ করে একখানা চুম্বন করলেন এবং কাঁদতে কাঁদতে বললেন হে আল্লাহর রাসূল আমার মাতা-পিতা আপনার উপর কুরবান হোক আপনার জীবন যেমন পবিত্র আপনার মৃত্যু তেমন
পবিত্র আল্লাহর শপথ দ্বিতীয়বার আপনার আর কোন মৃত্যু ঘটবে না আর কোন মৃত্যু আপনাকে স্পর্শ করতে পারবে না অতঃপর হযরত আবু বক্কর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু ঘর থেকে বেরিয়ে আসলেন তখন দেখলেন হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু দেশে আরা হয়ে ছটফট করছে তখন হযরত আবু বক্কর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু শান্তভাবে বললেন হে ওমর সংযত হও দহিনী ধারণ করো হে ওমর মনে রেখো প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে তখন হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা বলতে লাগলেন আমার আব্বাজান হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান আল্লাহর দাওয়াত কবুল করে জান্নাতুল ফেরদাউসে আসন গ্রহণ করেছেন কিন্তু আমার এই কষ্টের খবর কে রাখবে এদিকে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু শোকের আঘাতে পাথরের মত হয়ে গেলেন এইভাবে প্রিয় নবীর পরিবার সাহাবী মুজাহিদগণ একে একে সমগ্র মানুষ বাকরুদ্ধ হয়ে গেল শুধুমাত্র হযরত আবু বক্কর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু ধৈর্য ধারণ করে সকলের উদ্দেশ্যে সান্ত্বনা ও উপদেশ প্রদান করতে লাগলো হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র দেহ মোবারক জমিনের উপর থাকতেই একজন খলিফা নির্বাচন
করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন কে হবে মুসলিম জাহানের খলিফা এই বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন কোন আদেশ নির্দেশ দিয়ে যাননি যাতে মুসলিম মিল্লাতের মাঝে কোন সংখ্যা বা কলহ না দেখা দেয় তার জন্যই কয়েকজন বিবেক বুদ্ধিমান সাহাবী একত্রিত হয়ে মুসলিম জাহানের খালিফা নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন বিষয়টি আলোচনা শুরু হতেই বিতর্ক দেখা দিল আনসার ও মুজাহিরগণের ভিতরে নিজ নিজ খেয়াল মতো খিলাফতের দাবি করতে লাগলো এটি আরো বিতর্ক শুরু হতে পারে এইজন্যই ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এগিয়ে এসে বললেন এরপরে মুসলিম জাহানের খলিফা হযরত
আবু বক্কর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুই হবেন তিনি আমাদের নেতা আজ থেকে আমি হযরত আবু বক্কর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর কাছে বায়াত গ্রহণ করলাম হাতে হাত দিয়ে বায়াত গ্রহণ করলেন তারপর হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর দেখাদেখি সমস্ত লোক এই সিদ্ধান্ত মেনে নিলেন অতঃপর হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাফন কাঁপনের প্রস্তুতি শুরু হলো প্রথমেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেহ মোবারক গোসল করার ব্যবস্থা গৃহের ভিতরে হলো গোসল দেওয়ার জন্য সাহাবীরা এগিয়ে এলো তারা সকলেই বলতে লাগলো আল্লাহর কসম আমরা অনুভব
করলাম নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেহ থেকে সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ছিল আমরা জান্নাতের সুঘ্রাণ পাচ্ছি সবার চোখের পানি থামছে না এই সময় একজন সাহাবী বলল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গোসল মোবারকে আমরাও শরিক হতে চাই হযরত উসামা ইবনে জায়েদ রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু গোসলের জন্য পানি আনলেন এই সময় তিনি বলছিলেন হে আল্লাহর প্রিয় রাসূল আমার মাতা-পিতা আপনার উপর কুরবান হোক আপনার পরলোক গমনে আমরা এমন জিনিস হারালাম যা আর কোনদিনই ফিরে পাবো না আজ থেকে সব ওহীর দরজা বন্ধ হয়ে গেল ইয়া রাসূলাল্লাহ আজকের দিনটি
বিশ্ববাসীর জন্য এক বিশাল শোকবার্তা হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এবং হযরত আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র দেহ মোবারক গোসল করাতে লাগলেন সেই সময় হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু অঝোরে কান্না করছে চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরে পড়ছে আর মনের অজান্তেই বলতে লাগলো ইয়া রাসূলাল্লাহ আমি কিভাবে গোসল করাবো আপনি তো ছিলেন এই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ এবং সবচেয়ে পবিত্র ইয়া রাসূলাল্লাহ আপনার দেহ মোবারকের মত এত সুঘ্রাণ আমি কখনোই পাইনি সমস্ত সাহাবীরা এভাবে মুহাম্মদ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেহ মোবারক গোসল কার্য সম্পাদন করলেন গোসল শেষে তিনখানা কাপড় দ্বারা কাফনের ব্যবস্থা করা হলো কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেহ মোবারক কোনখানে দাফন করাবে এই নিয়েই সাহাবীদের মধ্যে নানা রকম মতভেদ দেখা দিল কেউ বলল ওহুদের ময়দানে দাফন করা হোক শহীদদের পাশে আবার কেউ বলল জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হোক এভাবেই মতভেদ সৃষ্টি হলো তখন হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন আমি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি কথা শুনেছি যে নবী যেখানে ইন্তেকাল করেন তাকে সেই
স্থানেই দাফন করা হয় তাছাড়া নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে গেছেন আমাকে সেই স্থানে দাফন করবে যেখানে কেউ মসজিদ বানাতে না পারে এই কথাগুলোর উপর ভিত্তি করে হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহার গৃহে যেখানে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন সেখানেই এর ব্যবস্থা করা হলো অতঃপর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এলো নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জানাজা কে পড়াবেন এমন মহান ব্যক্তিত্ব যার পিছনে সাহাবারা নামাজ পড়তেন তার জানাজার ইমামতি কে করবেন অবশেষে সিদ্ধান্ত হলো যেকোনো
একজন ঈমান নির্ধারিত করা হবে না সাহাবারা একদল একদল করে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জানাজা পড়াবেন প্রথমে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবার জানাজা পড়া তারপর মুহাজিরগণ এলেন তারপর আনসারগণ এলেন তারপর শহরের সাধারণ মানুষ এলেন এভাবেই একে একে জানাজা সম্পূর্ণ করল জানাজা সম্পূর্ণ করার 32 ঘন্টা পর সাইয়েদুল মুরসালিন খাতেমুন নবীন রহমাতুল্লিল আলামিন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র দেহ মোবারক চিরদিনের জন্য মানুষের চোখ থেকে আড়াল করা হলো অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে
স্থানে বসতেন হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহা সেই স্থানে গেলেন সেখানে আলতোভাবে স্পর্শ করলেন অঝরেই কাঁদতে কাঁদতে বললেন আব্বাজান ইয়া রাসূলাল্লাহ আপনি তো চলে গেলেন আমাদের এতিম করে চলে গেলেন আজ মদিনা এত নীরব কেন কেন বাতাসে আপনার স্নেহ ভরা কণ্ঠ শোনা যায় না তিনি আর্তনাদ করে উঠলেন ইয়া রাসূলাল্লাহ আপনি তো বলেছিলেন আমরা জান্নাতে একসঙ্গে থাকবো কিন্তু আমি কিভাবে সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করব এই পৃথিবী আমার জন্য একেবারে শূন্য হয়ে গেছে তারপর হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
কবর মোবারকের কাছে গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ আপনি তো সেই মানুষ যার উপরে আল্লাহর রহমত ছিল জিব্রাইল আলাইহিস সালাম আপনার কাছে ওহী নিয়ে আসতেন আর সেই ওহীর দরজা বন্ধ হয়ে গেল আজ এই মদিনা এত নিঃসঙ্গ কেন এদিকে হযরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু নিস্তব্ধ বাকরুদ্দ হয়ে মসজিদে নববীতে অবস্থান করলেন সেই সময় কয়েকজন সাহাবী তার কাছে আসলেন এবং বললেন বিলাল দয়া করে আমাদের জন্য একবার আযান দাও যেন আমরা নবীজির দিনগুলোর কথা মনে করতে পারি তখন হযরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু আযানের জন্য প্রস্তুত হলেন আল্লাহু আকবার আল্লাহু
আকবার মধুর ধ্বনি উচ্চারণ করতেই সবাই কাঁদতে লাগলো অতঃপর যখন আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা শুরু করল তখন কান্নার আওয়াজ আরো বেড়ে গেল কিন্তু যখন বললেন আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ তখন হযরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর কন্ঠ আটকে গেল তিনি আর বলতে পারলেন না হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন মিনারের উপরে বসে পড়লেন সারা মদিনা যেন আবার শোকে স্তব্ধ হয়ে গেল তখন হযরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন আমি আর মদিনায় থাকতে পারবো না রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নেই তাহলে আমি কেন এখানে থাকবো সেদিনই তিনি
মদিনা ছেড়ে চলে গেলেন আর কোনদিনই আজান দেননি শুধু একবার ছাড়া কিন্তু হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু ছিলেন কঠোর হৃদয়ের মানুষ শক্তিমান নেতা কিন্তু নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকালের পর তিনিও ভেঙে পড়লেন তিনি রাস্তার ধারে বসেছিল একা একা বলতে লাগলো দয়ার নবীজির কবর মোবারকের দিকে তাকালেই আমার বুক ফেটে যায় আমার মনে হয় তিনি উঠে আসবেন আমাদের বলবেন ওমর কাঁদো না আমি তোমাদের মাঝে আছি কিন্তু তিনি কিন্তু আর ফিরে আসবেন না তার বুকের ভিতর থেকে কান্নার শব্দ বেরিয়ে আসছিল সেই ওমর যিনি কখনো কারো সামনে কাঁদতেন না আজ রাস্তার
পাশে বসে একা একা কাঁদছেন অতঃপর হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু একদিন দয়ার নবীজির কবরের পাশে বসে বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ আমি সবসময় আপনার ছায়ায় ছিলাম আমি আপনার সাথে হাসতাম আপনার সাথে কাঁদতাম কিন্তু আজ আমি একা আমি নিঃসঙ্গ আমি আপনাকে ছাড়া কিভাবে জীবন কাটাবো আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিদায়ের পর মাত্র দুই বছর বেঁচে ছিলেন সেই দুই বছর যেন এ একটি যুগের মতো কষ্টে কেটেছে অতঃপর কয়েকদিন পর হযরত আবু বক্কর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু নিজ গৃহে
সায়িত ছিলেন এক রাতে স্বপ্ন দেখলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলছেন আবু বক্কর আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করছি স্বপ্ন দেখে হযরত আবু বক্কর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু দ্রুত ঘুম থেকে উঠে পড়লেন মনে মনে হাসলেন এবং বললেন আমার সময় এসে গেছে এভাবেই কিছুদিন যাবার পর তিনি ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়লেন যখন তার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলো তখন হয়তো তওবা করতে হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন প্রিয় সাহাবী ভাইয়েরা আমাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পাশে দাফন করো আমি তার
কাছেই ফিরে যেতে চাই যখন হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু মৃত্যুবরণ করলেন তখন নবীজির পাশে তাকে কবর দেওয়া হলো তখন মদিনার আকাশে যেন আবার কান্নার শব্দ শোনা গেল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাহমাতাল্লিল আলামিন দয়ার নবী মায়ার নবী আমাদের মত এই উম্মতের জন্য কত কষ্টই না করেছেন কিন্তু আজ আমরা কি সত্যিই নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসি আজও কি আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শোক অনুভব করি আজও কি আমরা তাকে মনে করি আমরা কি তার সুন্নাহ আঁকড়ে ধরে আছি হে আল্লাহ আমাদের হৃদয়ে নবীজি
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসায় ভরে দাও হে আল্লাহ আমাদের এমন জীবন দাও যেন আমরা তার পথে চলতে পারি হে আল্লাহ আমাদের এমন মৃত্যু দাও যেন আমরা জান্নাতে তার সাথে মিলিত হই প্রিয় দর্শক আসুন আমরা সকলেই যেন প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শে আদর্শবান হতে পারি আমরা যেন আমরা যেন নবীজির মত চরিত্রবান হতে পারি আমরা সকলেই যেন সহজ সরল পথে চলতে পারি আর মৃত্যু সময় যেন পবিত্র কলেমা পড়তে পড়তে মৃত্যুবরণ করতে পারি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সকলকে এই তৌফিক দান করুক আমরা সবাই বলি আমিন আসসালামু আলাইকুম
বিশ্ববাসীর জন্য এক বিশাল শোকবার্তা হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এবং হযরত আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র দেহ মোবারক গোসল করাতে লাগলেন সেই সময় হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু অঝোরে কান্না করছে চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরে পড়ছে আর মনের অজান্তেই বলতে লাগলো ইয়া রাসূলাল্লাহ আমি কিভাবে গোসল করাবো আপনি তো ছিলেন এই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ এবং সবচেয়ে পবিত্র ইয়া রাসূলাল্লাহ আপনার দেহ মোবারকের মত এত সুঘ্রাণ আমি কখনোই পাইনি সমস্ত সাহাবীরা এভাবে মুহাম্মদ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেহ মোবারক গোসল কার্য সম্পাদন করলেন গোসল শেষে তিনখানা কাপড় দ্বারা কাফনের ব্যবস্থা করা হলো কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেহ মোবারক কোনখানে দাফন করাবে এই নিয়েই সাহাবীদের মধ্যে নানা রকম মতভেদ দেখা দিল কেউ বলল ওহুদের ময়দানে দাফন করা হোক শহীদদের পাশে আবার কেউ বলল জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হোক এভাবেই মতভেদ সৃষ্টি হলো তখন হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন আমি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি কথা শুনেছি যে নবী যেখানে ইন্তেকাল করেন তাকে সেই
স্থানেই দাফন করা হয় তাছাড়া নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে গেছেন আমাকে সেই স্থানে দাফন করবে যেখানে কেউ মসজিদ বানাতে না পারে এই কথাগুলোর উপর ভিত্তি করে হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহার গৃহে যেখানে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন সেখানেই এর ব্যবস্থা করা হলো অতঃপর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এলো নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জানাজা কে পড়াবেন এমন মহান ব্যক্তিত্ব যার পিছনে সাহাবারা নামাজ পড়তেন তার জানাজার ইমামতি কে করবেন অবশেষে সিদ্ধান্ত হলো যেকোনো
একজন ঈমান নির্ধারিত করা হবে না সাহাবারা একদল একদল করে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জানাজা পড়াবেন প্রথমে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবার জানাজা পড়া তারপর মুহাজিরগণ এলেন তারপর আনসারগণ এলেন তারপর শহরের সাধারণ মানুষ এলেন এভাবেই একে একে জানাজা সম্পূর্ণ করল জানাজা সম্পূর্ণ করার 32 ঘন্টা পর সাইয়েদুল মুরসালিন খাতেমুন নবীন রহমাতুল্লিল আলামিন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র দেহ মোবারক চিরদিনের জন্য মানুষের চোখ থেকে আড়াল করা হলো অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে
স্থানে বসতেন হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহা সেই স্থানে গেলেন সেখানে আলতোভাবে স্পর্শ করলেন অঝরেই কাঁদতে কাঁদতে বললেন আব্বাজান ইয়া রাসূলাল্লাহ আপনি তো চলে গেলেন আমাদের এতিম করে চলে গেলেন আজ মদিনা এত নীরব কেন কেন বাতাসে আপনার স্নেহ ভরা কণ্ঠ শোনা যায় না তিনি আর্তনাদ করে উঠলেন ইয়া রাসূলাল্লাহ আপনি তো বলেছিলেন আমরা জান্নাতে একসঙ্গে থাকবো কিন্তু আমি কিভাবে সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করব এই পৃথিবী আমার জন্য একেবারে শূন্য হয়ে গেছে তারপর হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
কবর মোবারকের কাছে গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ আপনি তো সেই মানুষ যার উপরে আল্লাহর রহমত ছিল জিব্রাইল আলাইহিস সালাম আপনার কাছে ওহী নিয়ে আসতেন আর সেই ওহীর দরজা বন্ধ হয়ে গেল আজ এই মদিনা এত নিঃসঙ্গ কেন এদিকে হযরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু নিস্তব্ধ বাকরুদ্দ হয়ে মসজিদে নববীতে অবস্থান করলেন সেই সময় কয়েকজন সাহাবী তার কাছে আসলেন এবং বললেন বিলাল দয়া করে আমাদের জন্য একবার আযান দাও যেন আমরা নবীজির দিনগুলোর কথা মনে করতে পারি তখন হযরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু আযানের জন্য প্রস্তুত হলেন আল্লাহু আকবার আল্লাহু
আকবার মধুর ধ্বনি উচ্চারণ করতেই সবাই কাঁদতে লাগলো অতঃপর যখন আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা শুরু করল তখন কান্নার আওয়াজ আরো বেড়ে গেল কিন্তু যখন বললেন আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ তখন হযরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর কন্ঠ আটকে গেল তিনি আর বলতে পারলেন না হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন মিনারের উপরে বসে পড়লেন সারা মদিনা যেন আবার শোকে স্তব্ধ হয়ে গেল তখন হযরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন আমি আর মদিনায় থাকতে পারবো না রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নেই তাহলে আমি কেন এখানে থাকবো সেদিনই তিনি
মদিনা ছেড়ে চলে গেলেন আর কোনদিনই আজান দেননি শুধু একবার ছাড়া কিন্তু হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু ছিলেন কঠোর হৃদয়ের মানুষ শক্তিমান নেতা কিন্তু নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকালের পর তিনিও ভেঙে পড়লেন তিনি রাস্তার ধারে বসেছিল একা একা বলতে লাগলো দয়ার নবীজির কবর মোবারকের দিকে তাকালেই আমার বুক ফেটে যায় আমার মনে হয় তিনি উঠে আসবেন আমাদের বলবেন ওমর কাঁদো না আমি তোমাদের মাঝে আছি কিন্তু তিনি কিন্তু আর ফিরে আসবেন না তার বুকের ভিতর থেকে কান্নার শব্দ বেরিয়ে আসছিল সেই ওমর যিনি কখনো কারো সামনে কাঁদতেন না আজ রাস্তার
পাশে বসে একা একা কাঁদছেন অতঃপর হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু একদিন দয়ার নবীজির কবরের পাশে বসে বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ আমি সবসময় আপনার ছায়ায় ছিলাম আমি আপনার সাথে হাসতাম আপনার সাথে কাঁদতাম কিন্তু আজ আমি একা আমি নিঃসঙ্গ আমি আপনাকে ছাড়া কিভাবে জীবন কাটাবো আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিদায়ের পর মাত্র দুই বছর বেঁচে ছিলেন সেই দুই বছর যেন এ একটি যুগের মতো কষ্টে কেটেছে অতঃপর কয়েকদিন পর হযরত আবু বক্কর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু নিজ গৃহে
সায়িত ছিলেন এক রাতে স্বপ্ন দেখলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলছেন আবু বক্কর আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করছি স্বপ্ন দেখে হযরত আবু বক্কর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু দ্রুত ঘুম থেকে উঠে পড়লেন মনে মনে হাসলেন এবং বললেন আমার সময় এসে গেছে এভাবেই কিছুদিন যাবার পর তিনি ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়লেন যখন তার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলো তখন হয়তো তওবা করতে হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন প্রিয় সাহাবী ভাইয়েরা আমাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পাশে দাফন করো আমি তার
কাছেই ফিরে যেতে চাই যখন হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু মৃত্যুবরণ করলেন তখন নবীজির পাশে তাকে কবর দেওয়া হলো তখন মদিনার আকাশে যেন আবার কান্নার শব্দ শোনা গেল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাহমাতাল্লিল আলামিন দয়ার নবী মায়ার নবী আমাদের মত এই উম্মতের জন্য কত কষ্টই না করেছেন কিন্তু আজ আমরা কি সত্যিই নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসি আজও কি আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শোক অনুভব করি আজও কি আমরা তাকে মনে করি আমরা কি তার সুন্নাহ আঁকড়ে ধরে আছি হে আল্লাহ আমাদের হৃদয়ে নবীজি
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসায় ভরে দাও হে আল্লাহ আমাদের এমন জীবন দাও যেন আমরা তার পথে চলতে পারি হে আল্লাহ আমাদের এমন মৃত্যু দাও যেন আমরা জান্নাতে তার সাথে মিলিত হই প্রিয় দর্শক আসুন আমরা সকলেই যেন প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শে আদর্শবান হতে পারি আমরা যেন আমরা যেন নবীজির মত চরিত্রবান হতে পারি আমরা সকলেই যেন সহজ সরল পথে চলতে পারি আর মৃত্যু সময় যেন পবিত্র কলেমা পড়তে পড়তে মৃত্যুবরণ করতে পারি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সকলকে এই তৌফিক দান করুক আমরা সবাই বলি আমিন আসসালামু আলাইকুম।
শেষকথা :
আমাদের এই mahabishwatvnews.com পত্রিকা ওয়েবসাইটে প্রতিনিয়ত যে নিউজ বা শিক্ষনীয় ব্লগ পোস্ট করা হয় ঠিক তেমনই আজকের এই শিক্ষনীয় আর্টিকেলটি আশাকরি আপনাদের অনেক উপকারে আসছে। 🫣
আর হ্যাঁ আজকের আর্টিকেলটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার বন্ধুবান্ধবদের সাথে পোস্টটি শেয়ার করবেন,যাতে তারাও এই শিক্ষণীয় আর্টিকেলটি পড়ে "মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাঃ এর ইন্তেকালের দিন সকালে কি ঘটেছিলো ? সকল মুসলিমের জানা উচিৎ | মহাবিশ্ব টিভি নিউজ" সম্পর্কে জেনে উপকৃত হতে পারে।
আরও পোস্ট পড়ুন-
খাজা বাবা ও জয়পালের লড়াই। খাজা বাবার জিন্দা কারামত। ইসলামিক কাহিনী। মহাবিশ্ব টিভি নিউজ
অত্যাচারী ফেরাউনের অলৌকিক কাহিনী |আল্লাহর আজাব | ইসলামিক কাহিনী। মহাবিশ্ব টিভি নিউজ
গরিব মূর্তিকারের জাদুকরী টিয়া পাখি | Bangla story | bangla cartoon | Bengali Fairy Tales Cartoon
