একদিন শিশুবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্ষুধার্থ অবস্থায় মক্কার ধুলামাখা পথ ধরে হেঁটে চলেছে। কিছুটা দূরে ছিল আবু জাহেলের খেজুর বাগান। আবু জাহেল এক ইহুদি ব্যক্তিকে নিয়ে খেজুরগুলো একটি বস্তায় ভর্তি করছিল। শিশু নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন ক্ষুধার্থ ছিল। তাই ক্ষুধ নিবারণের জন্য দুটি খেজুরের আশায় আবু জাহেলের খেজুর বাগানের দিকে যেতে লাগল। শিশু নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধীরে ধীরে সেই খেজুর বাগানে হাজির হলেন এবং আবু জাহেলকে সালাম দিয়ে বিনয়ের সঙ্গে বললেন চাচাজান আমার খুব
ক্ষুধা পেয়েছে আমাকে দুটি খেজুর দিতে পারবেন তখন আবু জাহেল তাচ্ছিল্য ভরা চোখে তাকিয়ে বলল হে মোহাম্মদ তোমাকে খেজুর দিতে পারি কিন্তু একটি শর্ত আছে ওই যে ব্যক্তিটি দাঁড়িয়ে আছে তার কাছে বস্থা আছে ওইগুলো তুমি মাথায় করে নিয়ে আমার বাড়িতে দিয়ে আসো তাহলে তুমি খেজুর পাবে তখন শিশুনবী সাথে সাথে ওই ইহুদি ব্যক্তির কাছে চলে গেলেন। ইহুদি লোকটি তাকে অবাক হয়ে দেখে বললেন, হে বালক মোহাম্মদ তুমি কি জন্য এসেছো? শিশু নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি এই বস্তা মাথায় করে নিয়ে যাব। ইহুদি ব্যক্তিটি বললেন, এই ছোট্ট বয়সে তুমি কি
এই বস্তায় নিয়ে যেতে পারবে? শিশু নবী বললেন, নিশ্চয়ই পারব। অতঃপর শিশু মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধুলি মাখা শরীরে মাথায় বিশাল বস্তা নিয়ে হেঁটে চললেন। ছোট্ট ছোট্ট পা ক্লান্ত দেহ কিন্তু চেহারায় এক অপার্তিব্য শান্তি এবং তার পিছু চলেছে আবু জাহেল এবং সেই ইহুদি ব্যক্তি কিছুক্ষণ পর সেই বস্তা আবু জাহেলের বাড়ির সামনে এসে রাখলেন। তখন ইহুদি ব্যক্তি এই বস্তা নিয়ে বাড়ির ভিতরের কোনে রেখে দিলেন। তারপর শিশু নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন চাচাজান আমাকে খেজুর দেবেন না তখন আবু জাহেল মাত্র একটি খেজুর
দিলেন তখন শিশু নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন চাচাজান আরেকটি খেজুর দেবেন না এই নির্দোষ চাওয়ায় যেন আবু জাহেলের আগুনে ঘি ঢেলে দিল সে রেগে গিয়ে হঠাৎ করে একটি প্রচন্ড থাপ্পড় মারল শিশু মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গালে সঙ্গে সঙ্গে সূর্য যেন হঠাৎ ডুবে গেল আকাশ কেঁদে উঠলো বাতাস স্তব্ধ হয়ে গেল পাহাড় পর্বত যেন অশ্রু ঝরালো যে একটি নিষ্পাপ শিশুর উপর এমন অন্যায় নিষ্ঠুর আবু জাহেল হাসতে হাসতে ঘরে প্রবেশ করল ঠিক তখনই ঘটলো এক অলৌকিক ঘটনা খেজুর ভর্তি বস্তার মুখ খুলতেই আবু জাহেল হতবাক হয়ে গেলেন। আবু
জাহেল দেখল বস্তার সমস্ত খেজুরগুলো ছোট ছোট পাথর হয়ে গেছে। চোখের সামনে এমন অলৌকিক ঘটনা দেখার পর সেই ইহুদি বিস্মোয়ে হতবাক হয়ে গেল। এই দৃশ্য দেখে সেই ইহুদি ব্যক্তি থমকে দাঁড়ালেন। এমন অলৌকিক ঘটনার কথা জানানোর জন্য ইহুদি ব্যক্তিটি দ্রুত তাদের নেতার কাছে ছুটে গেল। কিন্তু নিষ্ঠুর অত্যাচারী আবু জাহেল তখন ঘর থেকে বের হয়ে এল এবং কটাক্ষ করে বললেন, হে মোহাম্মদ, তুমি তো বড় জাদুঘর। আমার খেজুরগুলো জাদু করে পাথর করে দিয়েছো। শিশু নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নরম কন্ঠে মাথা নিচু করে বললেন চাচাজান আমি কিছুই জানিনা এই কথা
বলতেই নিষ্ঠুর আবু জাহেল আর একটা চড় মারলেন চড়ের শব্দে যেন আবারো আকাশ ক্ষেপে উঠলো পাহাড় স্তব্ধ হয়ে গেল আর শিশুটির চোখে জমে উঠলো এক বিন্দু অশ্রু কিন্তু কি আশ্চর্য শিশু মোহাম্মদ শুধু এতটুকুই বললেন চাচাজান আপনার হাতে ব্যথা লাগেনি তো আহা কি মমতা কি সহমর্মিতা নিজের যে চড় খেলেন অথচ চিন্তা করলেন চড় মারা মানুষের ব্যথার কথা। অতঃপর শিশুবী সেই ব্যথা আর অপমানের বোঝা নিয়ে বাড়ি ফিরলেন না। চুপচাপ চলে গেলেন পাহাড়ের কিনারায়। শুধু নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে রইলেন। এই ঘটনা দেখে গাছগুলো পাহাড়গুলো বলতে লাগলো আহ আফসোস। যাকে না
সৃষ্টি করলে এই জমিন, এই আসমান, এই পৃথিবী কিছুই সৃষ্টি হতো না। সেই মহান নবী আজ ক্ষুধার্থ, অপমানিত, অবহেলিত। কিন্তু তবুও পাষান্ড আবু জাহেলের হৃদয় এতটুকুও কাঁপলো না। এক বৃন্দু অনুতপও তার চোখে এলো না। এদিকে সেই ইহুদি ব্যক্তিটি তাদের নেতার কাছে এসে বলল, আজ এমন এক ঘটনা দেখেছি যা কল্পনা কেউ হার মানায়। আব্দুল্লাহর পুত্র শিশু মোহাম্মদের এমন ক্ষমতা আছে যা দুনিয়ার কারো নেই। তাকে একটা চড় মারলে খেজুর সব পাথর হয়ে যায়। আচ্ছা আপনি কি বলতে পারবেন এটা কি জাদু না অলৌকিক ক্ষমতা? তখন তাদের নেতা বললেন আমরাও শুনেছি আমাদের ধর্মগ্রন্থ নাকি মোহাম্মদের
নাম আছে সে হবে শ্রেষ্ঠ নবী এবং শেষ নবী তবে তিনি কি এই মোহাম্মদ এটা জানার জন্য আমাদের ধর্মগুরুর সান্নিধ্য প্রয়োজন যদি এটা সত্য হয় তবে তাকে আমরা বাঁচাতে দেবো না এই পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেব তোমরাও যাও আমাদের ধর্মগুরুর কানে এটি পৌঁছে দাও তখন সেই ইহুদি ব্যক্তিটি আবারো আবু জাহেলের বাড়ির দিকে রওনা হলেন। যেতে যেতে সেই খেজুর বাগানের কাছে উপস্থিত হয়ে দেখলেন সমস্ত খেজুর গাছের খেজুর নেই। সব একেবারে পাথর হয়ে গেছে। এটা দেখে সেই ইহুদি ব্যক্তিটি হতভম্ব হয়ে গেলেন। তিনি আর এক মুহূর্ত দাঁড়ালেন না। খুব দ্রুত আবু
জাহেলের বাড়ির দিকে রওনা হলেন। আবু জাহেলের বাড়িতে এসে বললেন, ভাই, আপনার খেজুর বাগানের সমস্ত খেজুরগুলো তো পাথরে পরিণত হয়ে গেছে। এখন এটাকে যদি ফিরিয়ে আনতে না পারেন তাহলে অনেক টাকা ক্ষতি হয়ে যাবে। এটাকে ফেরানোর একমাত্র পথ হলো শিশু মোহাম্মদের কাছে ক্ষমা চাওয়া। কিন্তু আবু জাহেল ক্ষমা চাওয়ার পাত্র ছিল না। সে ছিল নিষ্ঠুর এবং অতিচালাক। তাই সে চালাকি করেই বলল, ঠিক আছে চলো আমরা মোহাম্মদের বাড়িতে গিয়ে দেখি। এই বলে তারা শিশু মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাড়ির দিকে রওনা হলেন। শিশু মুহাম্মদ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থাকতেন চাচা আবু তালেবের সঙ্গে। চাচা আবু তালেব তখন ঘরে একা। কিছুক্ষণের মধ্যেই আবু জাহেল এসে হাজির হয়ে বললেন হে আবু তালেব শিশু মোহাম্মদ কোথা থেকে এমন জাদু শিখেছে সে তো বড় জাদুঘর সে আমার খেজুরগুলো সব পাথর করে দিয়েছে কোথায় গিয়েছে তুমি কি খবর রাখো তাকে তো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না দেখো কোন পাহাড়ের কিনারায় জঙ্গলের বাঘ ভাল্লুকে খেয়ে নিয়েছে কিনা এই কথা শোনা মাত্রই চাচা আবু তালেব আর দেরি করলেন না শিশু নববীকে খুঁজতে বার হলেন। এদিকে শিশু নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম পাহাড়ের কিনারায় বসে কাঁদছে আর বলছে আজ যদি আমার মা-বাবা বেঁচে থাকতো আমার সাথে কেউ এরূপ ব্যবহার করতে পারতো না আমি আজ বড় একা শিশু নবীর কান্না দেখে জঙ্গলের বাঘ ভাল্লুক হরিণ সেখানে আসলেন। সেই ব্যথায় ব্যতীত হয়ে তারাও যেন কাঁদছে আর বলছে ইয়া রাসূলাল্লাহ রহমাতুল্লিল আলামিন এই চড় যেন আমাদের লেগেছে। ইয়া রাসূলাল্লাহ তুমি আর কেঁদো না। এই কান্না আমরা সহ্য করতে পারছি না। অতঃপর কিছুক্ষণের মধ্যেই চাচা আবু তালেব সেখানে হাজির হলেন। এটা দেখার পর তিনি আর কিছুই বললেন না। একেবারেই অবাক হয়ে গেল। তখন
চাচা আবু তালেব সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, তোমাকে এমন কষ্ট দিল আমি তো আছি। আমি বেঁচে থাকতে কেউ তোমাকে আঘাত করতে পারবে না। অতঃপর শিশু নবীকে নিয়ে চাচা আবু তালেব বাড়িতে চলে এলেন। সেই রাতেই চাচা আবু তালেব আবু জেহেলের বাড়িতে গিয়ে বললেন, তুমি তাকে জাদুগার বলছো। অথচ সে তো কিছুই চায়নি। সে তো তোমার খেজুর নেয়নি। তোমার বিরুদ্ধে কিছু বলেনি। এই শিশুর চোখে যে অস্ত্র ঝরেছে সেই অশ্রু একদিন পাহাড়ও গলিয়ে দেবে। এই কথা বলে তিনি সেখান থেকে চলে আসলেন। এই কথা শুনে আবু জাহেল কোন জবাব দিল না। কারণ এই শিশুর মধ্যে এমন
কিছু ছিল যা সে অনুভব করতে পারছিল কিন্তু স্বীকার করতে পারছিল না। আসলে আবু জাহেল ছিল মিথ্যাবাদী এবং অত্যাচারী। সেই রাতে মক্কার আকাশে এক উজ্জ্বল আলো দেখা গেল। সবাই ভাবলো বুঝি কোন তারা পড়েছে। ফেরেশতারা একে একে নেমে আসলো। এক ফেরেশতা আরেক ফেরেশতাকে বলল, এই শিশুর চোখে পানি দিয়ে একদিন মহা কিতাব নাযিল হবে। এই শিশু হবে শ্রেষ্ঠ মানব তথা শ্রেষ্ঠ নবী। যা সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ। এদিকে ইহুদি কাফেররা এই অলৌকিক ঘটনা শোনার পর নবীজিকে হত্যা করার জন্য ষড়যন্ত্র লিপ্ত হয়ে যায়। কেননা তারা চেয়েছিল যে শেষ
নবী তাদের বংশের মধ্যে জন্ম হোক। কিন্তু তা হয়নি। তাদের মধ্যেও একজন ইহুদি তাদের ধর্মগুরুর কাছে গিয়ে সমস্ত ঘটনা খুলে বললেন তখন তাদের ধর্মগুরু বললেন আমি চিনেছি তাকে সে সেই নবী যার বর্ণনা আমাদের কিতাবে আছে তার দুটি চিহ্ন রয়েছে একটি কাধে নবুয়তের মোহর অন্যটি তার দৃষ্টিতে রহমত অন্য একজন প্রশ্ন করল তাহলে আপনি কি ঈমান আনবেন তখন তিনি চুপ করলেন মাথা নিচু করলেন তারপর শুধু বললেন আমরা চেয়েছিলাম আমাদের বংশে আসুক তাই আমরা সত্যকে অস্বীকার করব অন্যদিকে প্রতিবছর চাচা আবু তালেব ব্যবসার উদ্দেশ্যে সিরিয়ায় সফর করতেন। সেদিনও চাচা আবু তালেব সিরিয়া
সফরের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত হচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় শিশু মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে বললেন, চাচাজান আপনার সঙ্গে আমিও সিরিয়ায় সফরে যাব। কিন্তু শিশু মোহাম্মদের কথা চাচা আবু তালেব ফেলতে পারলেন না। অতঃপর পরের দিন ব্যবসার উদ্দেশ্যে শিশু মোহাম্মদকে নিয়ে চাচা আবু তালেব সিরিয়া সফরের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। এভাবেই চলতে চলতে কয়েক মঞ্জিল পথ অতিক্রম করার পর বাণিজ্য কাফেলা শাম নামক একটি জায়গায় গিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। সেখান থেকে কিছুটা দূরে খ্রিস্টানদের একটি গির্জা ছিল। সেই গির্জায় খ্রিস্টানদের একজন ধর্মগুরু ছিল।
যে সেই জামানার সবচেয়ে মহা পন্ডিত ছিল। কাফেলা যখন আবারো চলতে শুরু করলো তখন ওই খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু লক্ষ্য করে দেখল কাফেলার সাথে সাথে যে সোজা শিশু নবী আছে তার ঠিক মাথার উপর অখন্ড মেঘ আছে তার মাথার উপর ছায়া দিতে দিতে সরে আসছে এটা দেখে তিনি অবাক হয়ে গেলেন। খ্রিস্টান ধর্মগুরু খুব শীঘ্রই তাদের ধর্মগ্রন্থ পড়ে বুঝলেন নিশ্চয়ই কাফিলার ভিতরে আখেরি জামানার শেষ নবী রয়েছে। তখন তিনি খুব দূরত তাদের একজন লোককে ডাকলেন এবং বললেন তোমরা যাও ওই কাফেলার সকলকে ডেকে আনো তাদেরকে আমরা দাওয়াত খাওয়াবো এই কথা শুনে তারা সেখানে চলে গেল এবং তাদেরকে বলল প্রিয়
ভাইয়েরা আমাদের ধর্মগুরু আপনাদের সকলেরই দাওয়াত করেছেন। এই দাওয়াত আপনারা কবুল করুন। অতঃপর কাফেলার সকলেই ওই গির্জায় আসলেন। তারপর খ্রিস্টান ধর্মগুরু কাফেলার সকলকে পেট ভরে খাওয়ালেন। অতঃপর কিছুক্ষণ পর খ্রিস্টান ধর্মগুরু আবু তালেবকে বললেন, হে কাফেলার সর্দার নিশ্চয়ই এই শিশুর পিতামাতা ইন্তেকাল করেছে। আবু তালেব বললেন, হ্যাঁ আপনার অনুমান সত্য। তারা ইন্তেকাল করেছে। এখন আমি তাকে লালনপালন করি। তখন খ্রিস্টান ধর্মগুরু বলল, এ কাপেলা সর্দার শুনে রাখো আপনার ভাতিজা নিশ্চয়ই আল্লাহর শেষ নবী হবেন। তার পৃষ্ঠ দেশে মোহরের নবুয়াত ক্ষতিত আছে। তার
প্রতি তুমি খুবই সতর্ক দৃষ্টি রাখবে এবং তাকে কোথাও একা যেতে দেবেন না। কেননা ইহুদি নাসারাগণ এটা জানতে পারলে চিনে ফেললে তারা শিশু মোহাম্মদকে প্রাণনাসের চেষ্টা করবে। এতে কোন সন্দেহ নেই। তখন চাচা আবু তালেব বললেন, আপনি এই খবর জানেন কিভাবে? খ্রিস্টান ধর্মগুরু বললেন, আমি তওরাত কিতাবে এই ঘটনার বর্ণনা পেয়েছি। তুমি যাও তোমার ভাতিজাকে এখানে ডেকে আনো। তখন চাচা আবু তালেব শিশু মোহাম্মদকে সেখানে আনার জন্য চলে গেলেন। কিছুক্ষণ পর খ্রিস্টান ধর্মগুরু দেখলেন, আবার একটি কাফেলা রওনা হচ্ছে। তখন খ্রিস্টান ধর্মগুরু সেখানে গেলেন এবং তাদেরকে
জিজ্ঞাসা করলেন, আপনারা কারা আর কোথায় কি জন্যই বা যাচ্ছ? তখন তারা উত্তর দিল আমরা রোম দেশের সৈন্য। আমাদের বাদশাহ আমাদেরকে পাঠিয়েছে যে দুনিয়াতে নাকি আখেরি নবীর আবির্ভাব হয়েছে। অনেকদিন আগেই আমরা তার সন্ধান করছি। তাকে খুঁজে ফেলে হত্যা করে দেব। আপনি কি তার কোন সন্ধান দিতে পারবেন? তখন খ্রিস্টান ধর্মগুরু বলল, তোমরা বৃথায় তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছ। আল্লাহ তাআলা যদি সত্যিই তার শেষ নবীকে দুনিয়ায় পাঠিয়ে থাকেন তবে তো তিনি নিজেই তাকে হেফাজত করবেন। কারো এমন সাধ্য নেই যে তাকে হত্যা করতে পারবে। অতএব তোমরা আবারো রোম দেশে
ফিরে যাও। এই কথা শুনে ওই সৈন্যগুলো ফিরে গেল। এভাবেই সেইদিন অতিবাহিত হয়ে গেল। রাতের বেলা খ্রিস্টান ধর্মগুরু চাচা আবু তালেবকে তাদের গির্জায় ডেকে বলল, হে কাফেলার সরদার দেখেছো তো আমার কথাই সত্য। ইহুদি নাসারাগণ আখেরি নবীর সাথে চরম শত্রুতা পোষণ করে। তারা যদি শেষ নবীকে হাতের কাছে পেয়ে যায় তাহলে হত্যা করার চেষ্টা করবে। অতএব ভাতিজাকে নিয়ে বিদেশে যাওয়া উচিত হবে না। ফিরে যাও। অতঃপর পরের দিন চাচা আবু তালেব আর বিদেশ সফর করলেন না। আবারো দেশের পথে ফিরে আসতে লাগলেন। কিছুক্ষণ যাবার পর পথের মধ্যে একটি ঘোড়া
দেখতে পেলেন। কিন্তু সেখানে কোন মানুষ ছিল না। এটা দেখে তারা সেখানে দাঁড়িয়ে পড়লেন। তারপর দেখলেন একজন মানুষ মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। আসলেই এটি ছিল একজন ইহুদি যে শিশু নবীকে হত্যা করতে এসেছিল। কিন্তু আজ সেই শিশু নবী নিজে তাকে বাঁচিয়ে তুলছে। নিজের হাতে পানি খাওয়াচ্ছেন। এভাবেই তাকে বাঁচিয়ে নিজেদের সাথে নিয়ে আবারো পথ চলতে শুরু করলেন। এভাবেই চলতে চলতে তাদের কাফেলা একটি সাগরের কিনারায় এসে উপস্থিত হলেন। সেখানে ছিল একটি জেলে সম্প্রদায়ের বসবাস। তাদের কাফেলা সেখানেই বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। কিন্তু ওখানকার জেলের সম্প্রদায় ছিল
মূর্তিপূজারী। তারা ছিল কুসংস্কারে আবাদ্য। চাচা আবু তালেব হঠাৎ করে একটি জায়গায় গিয়ে দেখল একদল জেলে সম্প্রদায় মূর্তি পূজা করছে। তখন তাদের মধ্যে একজনকে জিজ্ঞাসা করল প্রিয় ভাইয়েরা আপনারা এমন করে মূর্তি পূজা করছেন কেন? তখন সেই ব্যক্তি বলল আমাদের জালে বহুদিন থেকে মাছ ধরা পড়ে না। তাই সমুদ্রের দেবতাকে খুশি করার জন্য এই পূজার আয়োজন করেছি। এদিকে শিশু মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লক্ষ্য করে দেখলেন একটি বড় মূর্তির সাথে একজন মা ও তার বাচ্চাকে সেকুল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। তাদেরকে বলি দেবে বলে। কেননা এই জেলে সম্প্রদায়ের
বিশ্বাস ছিল এভাবে বলি দিলে তাদের দেবতা খুশি হবে। তাদের জালে আবারো মাছ ধরা পড়বে। তখন শিশু মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে গেলেন এবং তাদেরকে শিকল খুলে মুক্তি করে দিলেন। সেই মুহূর্তে একজন জেলে সেখানে গেলেন এবং বললেন আমরা যাদেরকে বলি দেবো বলে বেঁধে রেখেছিলাম তাদেরকে একজন বাচ্চা খুলে দিয়েছে। এটা শুনে তারা সবাই অতি দ্রুত নবীজিকে ধরতে সেখানে যেতে লাগলো। তখন চাচা আবু তালেব তাদেরকে থামাতে গেল। আর সেই সাথে সাথেই তারা সবাই দেখতে পায় সমুদ্রের কাছে সেই বড় মূর্তিটি আপনা আপনি ভেঙে পড়েছে। সমুদ্রের ঢেউ উঠেছে। আর সেই ঢেউের
সাথে সাথেই অনেকগুলো মাছ উপরে উঠে এসেছে। এটা দেখে সমস্ত জেলে সম্প্রদায়ের মানুষ অনেকগুলো মাছ ধরল এবং তারা নিজেরা অনেক খুশি হয়ে গেল। এটা দেখে আবু তালেব অবাক হয়ে যায়। আসলেই নবীজি তখন সমুদ্রের ধারে দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করছিলেন। নবীজির দোয়ার বরকতে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে মাছ দিয়েছিলেন। অতঃপর তাদের কাফেলা মক্কার দিকে রওনা হলো। মক্কায় আসার পর শিশু নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাচা আবু তালেবের ছাগল নিয়ে চড়াতে যেতেন। একদিন ছাগল চড়িয়ে ফেরার পথে শিশু নবী দেখতে পান এক জায়গায়
দাস-দাসীদের কেনাবেচা চলছে। পুরুষদের গরম রড দিয়ে অত্যাচার করছে এবং মহিলাদের উচ্চ দামে কেনাবেচা চলছে। এটা দেখে শিশু নবী অনেক কষ্ট পায়। এদিকে নবীজির এক চাচা আবু লাহাব দাস-দাসীকে কেনাবাচা করতো। তিনি একজন দাসকে বেশি দামে বিক্রি করে দিচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় তার স্বামী গিয়ে বললেন, হুজুর আপনি এমন কাজ করবেন না। আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন। এভাবেই কাকুতি মিনতি করতে লাগলো। কিন্তু আবু লাহাব তার কোন কথাই শুনতে চায় না। ঠিক সেই সময় আমাদের দয়ার নবী সেখানে হাজির হয় এবং চাচা আবু লাহাবকে বলে আপনি এই মহিলাকে বিক্রি করবেন না। তখন আবু লাহাব বলে আমি
এই মহিলাকে অনেক বেশি দামে কিনেছি। আমার মূল্য পরিশোধ করে দিলে আমি তাকে ছেড়ে দেব। তখন শিশু নবী তার এই মূল্য পরিশোধ করে দিলেন। আর সেদিন সেই মহিলা নবীজির জন্য মুক্তি পেয়েছিলেন। অতঃপর সেই সময় মক্কায় বহুদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছিল না। মক্কায় বড় বড় নেতারা একত্রিত হয়ে বলতে লাগলো মক্কায় বহুদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে না। আমাদের বাচ্চারা মারা যাচ্ছে। পশুপাখি মারা যাচ্ছে। তাই আমরা সবাই মিলে কসম করছি যে আমরা সবাই কাবার কাছে আসবো এবং সেখানে গিয়ে বৃষ্টি চাইবো। যতক্ষণ না বৃষ্টি আসে ততক্ষণ আমরা সেখান থেকে আসবো না। এই কথা
বলার পর সবাই একে একে কাবার দিকে যেতে লাগলো। সেখানে চাচা আবু তালেবও যাবে। ঠিক এমন সময় শিশু মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাচা আবু তালেবকে জিজ্ঞাসা করলেন, চাচাজান আপনি কোথায় যাচ্ছেন? চাচা আবু তালেব বললেন হে মোহাম্মদ আমাদের মক্কা শুকিয়ে গিয়েছে বহুদিন বৃষ্টি হয় না একে একে সবাই মারা পড়ছে তাই বৃষ্টির জন্য কাবা ঘরের কাছে যাচ্ছি তখন শিশু নবী বললেন চাচাজান আপনি আমাকে সাথে নিয়ে চলেন। তখন চাচা আবু তালেব বললেন হে মোহাম্মদ তুমি এখন ছোট্ট সেখানে মক্কার বড় বড় নেতারা থাকবে। আমি যদি তোমাকে নিয়ে যাই তাহলে সকলেই আমাকে
অপমান করবে। তখন শিশু নবী বললেন, চাচাজান আপনি আমাকে সাথে নিয়ে চলেন। তারা যদি আমাকে সেখানে থাকতে না দেয় তাহলে আমি চলে আসবো। শিশু নবীর মুখে এমন কথা শোনার পর চাচা আবু তালেব তার কথা ফেলতে পারলেন না। আসলে তিনি তাকে খুবই ভালোবাসতেন। তাই তিনি তাকে নিয়ে কাবার দিকে রওনা হলেন। কিছুক্ষণ পর তারা কাবার কাছে গিয়ে হাজির হলেন। দেখলেন কাবা ঘরের কাছে মক্কার বড় বড় নেতারা হাজির হয়েছে। আশেপাশের পুরুষ মহিলা সবাই হাজির হয়েছে। কেননা তারা শপথ নিয়েছে। বৃষ্টি না আসা পর্যন্ত কাবা ঘর আঁকড়ে ধরে রাখবে। মক্কার বড় বড় নেতারা
বলতে লাগলো হে আবু তালেব তুমি কি জানো না আমরা এখানে শপথ করে এসেছি তুমি এই শিশুটিকে কেন নিয়ে এসেছো এখানে তো তার কোন প্রয়োজন নেই তখন আবু তালেব বললেন হে মোহাম্মদ তুমি পিছনের দিকে চলে যাও এই কথা শুনে শিশু মোহাম্মদ পিছনের দিকে চলে গেলেন। অতঃপর মক্কার বড় বড় নেতারা একসাথে বলতে লাগলো হে কাবা ঘরের স্রষ্টা আমাদের পানির ব্যবস্থা করে দিন। আমরা আর পারছি না। এভাবেই বলতে বলতে সারারাত কেটে গেল। কিন্তু একটুও বৃষ্টি হলো না। সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়ে গেল। বৃষ্টি হলো না। এদিকে কাবা ঘরও গরম হতে শুরু করল। এর মাঝে তিনজন গরম সহ্য করতে না পেরে গরমে অজ্ঞান
হয়ে গেল। কিছু লোক তাদেরকে নিয়ে এক জায়গায় চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেন। এদিকে একজন চাচা আবু তালেবের পিছনে আঁকড়ে ধরলেন। চাচা আবু তালেব যখন পিছনে ফিরে তাকালেন দেখলেন শিশু মোহাম্মদ সেখানে দাঁড়িয়ে আছে। অত্যন্ত রেগে গেলেন এবং বললেন, হে মোহাম্মদ তুমি এখানে কেন এসেছো? তখন শিশু মোহাম্মদ বললেন চাচাজান আমাকে আসতে দিন আমি আসলেই মহান আল্লাহ তাআলা পানি বর্ষণ করবেন তখন চাচা আবু তালেব বললেন এখানে এতগুলো মক্কার বড় বড় নেতা আছে তারা সবাই পানি চাইছে কিছু হচ্ছে না আর তুমি এখন এই শিশু বয়সে কি করবে তুমি চাইলে পানি হবে এটা সম্ভব অতএব তুমি
পিছনের দিকে চলে যাও এই কথা শুনে শিশু নবী আবার পিছনের দিকে চলে আসলেন এদিকে পুনরায় তারা একসাথে বলতে লাগলো হে কাবা ঘরে স্রষ্টা আপনি আমাদের পানির ব্যবস্থা করে দিন। কিন্তু কোন মতেই বৃষ্টি হলো না। তখন সবাই ক্লান্ত হয়ে এক জায়গায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। চাচা আবু তালেব পিছনে লক্ষ্য করে দেখলেন আবারো শিশু নবী সেখানে হাজির। তিনি অত্যন্ত রেগে গিয়ে বললেন, হে মোহাম্মদ তুমি আবার কেন এসেছো? শিশু মোহাম্মদ বললেন, চাচাজান, আমি তো আপনার ঘাম মুছতে এসেছি। এই কথা শুনে চাচা আবু তালেব নবীজির উপর প্রচন্ড মায়া লাগলো এবং তাকে জড়িয়ে ধরলেন। তখন শিশু মোহাম্মদ আবার
বললেন, চাচাজান আমাকে একটিবার কাবা ঘরের কাছে যেতে দিন। আমি গেলে আল্লাহ তাআলা পানি বর্ষণ করবেন। সেখানে থাকা মক্কার নেতাদের মধ্যে একজন এই কথাটি শুনতে পেল। শিশু মোহাম্মদ চিৎকার করে বলতে লাগলো, হে মক্কার মানুষেরা, চেয়ে দেখো পানি চলে এসেছে। সেখানে থাকা সমস্ত লোকেরা অবাক হয়ে বলতে লাগলো, কোথায় পানি এসেছে? এখানে তো আমরা সবাই গর্ভে মারা যাচ্ছি। আর তুমি বলছো পানি চলে এসেছে। তাদের মধ্য থেকে একজন বলল, হে মোহাম্মদ তুমি এগিয়ে যাও। কিন্তু অন্য নেতারা বলল আমাদের মত বড় বড় নেতা থাকতে। যদি এই শিশু মোহাম্মদ সামনে
চলে যায় তাহলে আমাদের মানসম্মান সব চলে যাবে। অতঃপর অনেক আলোচনার পর শিশু মোহাম্মদকে কাবা ঘরের সামনে যাবার অনুমতি দেওয়া হলো। শিশু মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কাবা ঘরের কাছে গিয়ে আকাশের দিকে মুখ তুললেন এবং আল্লাহর কাছে দোয়া চাইলেন। সঙ্গে সঙ্গে মক্কার বুকে মুসলধার বৃষ্টিপাত শুরু হলো। দেখতে দেখতে মক্কার চারিদিকে বৃষ্টিতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। এটা দেখে মক্কার মানুষেরা খুবই খুশি হয়ে যায় এবং বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে জিজার মত তাদের বাড়ি চলে যায়। প্রিয় দর্শক একবার ভেবে দেখুন এই কাহিনীটি শুধু
ইতিহাস নয় এটা ভালোবাসা কষ্টের আর তাকওয়ার এক জীবন্ত নির্দোষ আমাদের দয়ার নবী রহমতের নবী কতই না কষ্ট পেয়েছেন তিনি এত কষ্ট সয়েও কাউকে অভিশাপ দেননি শুধু দোয়া করেছিলেন হে আমার রব আমার উম্মতকে মাফ করে দাও তারা জানে না আমি কে এই সেই নবী যার ভালোবাসা ছাড়া জান্নাতের দরজা খুলবে না কারো জন্য আর আজ আমরা এই যুগের মুসলিম কতটুকু কাঁদি তার জন্য কতটুকু ভালোবাসি তাকে কতটুকু তার সুন্ন আঁকড়ে ধরেছি একবার ভেবে দেখুন যে নবীর কষ্টে পাহাড় কাঁদে গাছ কাঁদে পশুপাখি কাঁদে আর আমরা আমাদের চোখে জল আসে না আমাদের হৃদয় কেন নড়ে না প্রিয় দর্শক আসুন আমরা সকলেই
দোয়া করি মহান আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের সকলকে সেই দয়ার নবীর ওসিলায় মাফ করে দেন আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলের দোয়া কবুল করুক আমিন আসসালামু আলাইকুম।
দেখতে পেলেন। কিন্তু সেখানে কোন মানুষ ছিল না। এটা দেখে তারা সেখানে দাঁড়িয়ে পড়লেন। তারপর দেখলেন একজন মানুষ মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। আসলেই এটি ছিল একজন ইহুদি যে শিশু নবীকে হত্যা করতে এসেছিল। কিন্তু আজ সেই শিশু নবী নিজে তাকে বাঁচিয়ে তুলছে। নিজের হাতে পানি খাওয়াচ্ছেন। এভাবেই তাকে বাঁচিয়ে নিজেদের সাথে নিয়ে আবারো পথ চলতে শুরু করলেন। এভাবেই চলতে চলতে তাদের কাফেলা একটি সাগরের কিনারায় এসে উপস্থিত হলেন। সেখানে ছিল একটি জেলে সম্প্রদায়ের বসবাস। তাদের কাফেলা সেখানেই বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। কিন্তু ওখানকার জেলের সম্প্রদায় ছিল
মূর্তিপূজারী। তারা ছিল কুসংস্কারে আবাদ্য। চাচা আবু তালেব হঠাৎ করে একটি জায়গায় গিয়ে দেখল একদল জেলে সম্প্রদায় মূর্তি পূজা করছে। তখন তাদের মধ্যে একজনকে জিজ্ঞাসা করল প্রিয় ভাইয়েরা আপনারা এমন করে মূর্তি পূজা করছেন কেন? তখন সেই ব্যক্তি বলল আমাদের জালে বহুদিন থেকে মাছ ধরা পড়ে না। তাই সমুদ্রের দেবতাকে খুশি করার জন্য এই পূজার আয়োজন করেছি। এদিকে শিশু মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লক্ষ্য করে দেখলেন একটি বড় মূর্তির সাথে একজন মা ও তার বাচ্চাকে সেকুল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। তাদেরকে বলি দেবে বলে। কেননা এই জেলে সম্প্রদায়ের
বিশ্বাস ছিল এভাবে বলি দিলে তাদের দেবতা খুশি হবে। তাদের জালে আবারো মাছ ধরা পড়বে। তখন শিশু মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে গেলেন এবং তাদেরকে শিকল খুলে মুক্তি করে দিলেন। সেই মুহূর্তে একজন জেলে সেখানে গেলেন এবং বললেন আমরা যাদেরকে বলি দেবো বলে বেঁধে রেখেছিলাম তাদেরকে একজন বাচ্চা খুলে দিয়েছে। এটা শুনে তারা সবাই অতি দ্রুত নবীজিকে ধরতে সেখানে যেতে লাগলো। তখন চাচা আবু তালেব তাদেরকে থামাতে গেল। আর সেই সাথে সাথেই তারা সবাই দেখতে পায় সমুদ্রের কাছে সেই বড় মূর্তিটি আপনা আপনি ভেঙে পড়েছে। সমুদ্রের ঢেউ উঠেছে। আর সেই ঢেউের
সাথে সাথেই অনেকগুলো মাছ উপরে উঠে এসেছে। এটা দেখে সমস্ত জেলে সম্প্রদায়ের মানুষ অনেকগুলো মাছ ধরল এবং তারা নিজেরা অনেক খুশি হয়ে গেল। এটা দেখে আবু তালেব অবাক হয়ে যায়। আসলেই নবীজি তখন সমুদ্রের ধারে দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করছিলেন। নবীজির দোয়ার বরকতে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে মাছ দিয়েছিলেন। অতঃপর তাদের কাফেলা মক্কার দিকে রওনা হলো। মক্কায় আসার পর শিশু নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাচা আবু তালেবের ছাগল নিয়ে চড়াতে যেতেন। একদিন ছাগল চড়িয়ে ফেরার পথে শিশু নবী দেখতে পান এক জায়গায়
দাস-দাসীদের কেনাবেচা চলছে। পুরুষদের গরম রড দিয়ে অত্যাচার করছে এবং মহিলাদের উচ্চ দামে কেনাবেচা চলছে। এটা দেখে শিশু নবী অনেক কষ্ট পায়। এদিকে নবীজির এক চাচা আবু লাহাব দাস-দাসীকে কেনাবাচা করতো। তিনি একজন দাসকে বেশি দামে বিক্রি করে দিচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় তার স্বামী গিয়ে বললেন, হুজুর আপনি এমন কাজ করবেন না। আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন। এভাবেই কাকুতি মিনতি করতে লাগলো। কিন্তু আবু লাহাব তার কোন কথাই শুনতে চায় না। ঠিক সেই সময় আমাদের দয়ার নবী সেখানে হাজির হয় এবং চাচা আবু লাহাবকে বলে আপনি এই মহিলাকে বিক্রি করবেন না। তখন আবু লাহাব বলে আমি
এই মহিলাকে অনেক বেশি দামে কিনেছি। আমার মূল্য পরিশোধ করে দিলে আমি তাকে ছেড়ে দেব। তখন শিশু নবী তার এই মূল্য পরিশোধ করে দিলেন। আর সেদিন সেই মহিলা নবীজির জন্য মুক্তি পেয়েছিলেন। অতঃপর সেই সময় মক্কায় বহুদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছিল না। মক্কায় বড় বড় নেতারা একত্রিত হয়ে বলতে লাগলো মক্কায় বহুদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে না। আমাদের বাচ্চারা মারা যাচ্ছে। পশুপাখি মারা যাচ্ছে। তাই আমরা সবাই মিলে কসম করছি যে আমরা সবাই কাবার কাছে আসবো এবং সেখানে গিয়ে বৃষ্টি চাইবো। যতক্ষণ না বৃষ্টি আসে ততক্ষণ আমরা সেখান থেকে আসবো না। এই কথা
বলার পর সবাই একে একে কাবার দিকে যেতে লাগলো। সেখানে চাচা আবু তালেবও যাবে। ঠিক এমন সময় শিশু মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাচা আবু তালেবকে জিজ্ঞাসা করলেন, চাচাজান আপনি কোথায় যাচ্ছেন? চাচা আবু তালেব বললেন হে মোহাম্মদ আমাদের মক্কা শুকিয়ে গিয়েছে বহুদিন বৃষ্টি হয় না একে একে সবাই মারা পড়ছে তাই বৃষ্টির জন্য কাবা ঘরের কাছে যাচ্ছি তখন শিশু নবী বললেন চাচাজান আপনি আমাকে সাথে নিয়ে চলেন। তখন চাচা আবু তালেব বললেন হে মোহাম্মদ তুমি এখন ছোট্ট সেখানে মক্কার বড় বড় নেতারা থাকবে। আমি যদি তোমাকে নিয়ে যাই তাহলে সকলেই আমাকে
অপমান করবে। তখন শিশু নবী বললেন, চাচাজান আপনি আমাকে সাথে নিয়ে চলেন। তারা যদি আমাকে সেখানে থাকতে না দেয় তাহলে আমি চলে আসবো। শিশু নবীর মুখে এমন কথা শোনার পর চাচা আবু তালেব তার কথা ফেলতে পারলেন না। আসলে তিনি তাকে খুবই ভালোবাসতেন। তাই তিনি তাকে নিয়ে কাবার দিকে রওনা হলেন। কিছুক্ষণ পর তারা কাবার কাছে গিয়ে হাজির হলেন। দেখলেন কাবা ঘরের কাছে মক্কার বড় বড় নেতারা হাজির হয়েছে। আশেপাশের পুরুষ মহিলা সবাই হাজির হয়েছে। কেননা তারা শপথ নিয়েছে। বৃষ্টি না আসা পর্যন্ত কাবা ঘর আঁকড়ে ধরে রাখবে। মক্কার বড় বড় নেতারা
বলতে লাগলো হে আবু তালেব তুমি কি জানো না আমরা এখানে শপথ করে এসেছি তুমি এই শিশুটিকে কেন নিয়ে এসেছো এখানে তো তার কোন প্রয়োজন নেই তখন আবু তালেব বললেন হে মোহাম্মদ তুমি পিছনের দিকে চলে যাও এই কথা শুনে শিশু মোহাম্মদ পিছনের দিকে চলে গেলেন। অতঃপর মক্কার বড় বড় নেতারা একসাথে বলতে লাগলো হে কাবা ঘরের স্রষ্টা আমাদের পানির ব্যবস্থা করে দিন। আমরা আর পারছি না। এভাবেই বলতে বলতে সারারাত কেটে গেল। কিন্তু একটুও বৃষ্টি হলো না। সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়ে গেল। বৃষ্টি হলো না। এদিকে কাবা ঘরও গরম হতে শুরু করল। এর মাঝে তিনজন গরম সহ্য করতে না পেরে গরমে অজ্ঞান
হয়ে গেল। কিছু লোক তাদেরকে নিয়ে এক জায়গায় চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেন। এদিকে একজন চাচা আবু তালেবের পিছনে আঁকড়ে ধরলেন। চাচা আবু তালেব যখন পিছনে ফিরে তাকালেন দেখলেন শিশু মোহাম্মদ সেখানে দাঁড়িয়ে আছে। অত্যন্ত রেগে গেলেন এবং বললেন, হে মোহাম্মদ তুমি এখানে কেন এসেছো? তখন শিশু মোহাম্মদ বললেন চাচাজান আমাকে আসতে দিন আমি আসলেই মহান আল্লাহ তাআলা পানি বর্ষণ করবেন তখন চাচা আবু তালেব বললেন এখানে এতগুলো মক্কার বড় বড় নেতা আছে তারা সবাই পানি চাইছে কিছু হচ্ছে না আর তুমি এখন এই শিশু বয়সে কি করবে তুমি চাইলে পানি হবে এটা সম্ভব অতএব তুমি
পিছনের দিকে চলে যাও এই কথা শুনে শিশু নবী আবার পিছনের দিকে চলে আসলেন এদিকে পুনরায় তারা একসাথে বলতে লাগলো হে কাবা ঘরে স্রষ্টা আপনি আমাদের পানির ব্যবস্থা করে দিন। কিন্তু কোন মতেই বৃষ্টি হলো না। তখন সবাই ক্লান্ত হয়ে এক জায়গায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। চাচা আবু তালেব পিছনে লক্ষ্য করে দেখলেন আবারো শিশু নবী সেখানে হাজির। তিনি অত্যন্ত রেগে গিয়ে বললেন, হে মোহাম্মদ তুমি আবার কেন এসেছো? শিশু মোহাম্মদ বললেন, চাচাজান, আমি তো আপনার ঘাম মুছতে এসেছি। এই কথা শুনে চাচা আবু তালেব নবীজির উপর প্রচন্ড মায়া লাগলো এবং তাকে জড়িয়ে ধরলেন। তখন শিশু মোহাম্মদ আবার
বললেন, চাচাজান আমাকে একটিবার কাবা ঘরের কাছে যেতে দিন। আমি গেলে আল্লাহ তাআলা পানি বর্ষণ করবেন। সেখানে থাকা মক্কার নেতাদের মধ্যে একজন এই কথাটি শুনতে পেল। শিশু মোহাম্মদ চিৎকার করে বলতে লাগলো, হে মক্কার মানুষেরা, চেয়ে দেখো পানি চলে এসেছে। সেখানে থাকা সমস্ত লোকেরা অবাক হয়ে বলতে লাগলো, কোথায় পানি এসেছে? এখানে তো আমরা সবাই গর্ভে মারা যাচ্ছি। আর তুমি বলছো পানি চলে এসেছে। তাদের মধ্য থেকে একজন বলল, হে মোহাম্মদ তুমি এগিয়ে যাও। কিন্তু অন্য নেতারা বলল আমাদের মত বড় বড় নেতা থাকতে। যদি এই শিশু মোহাম্মদ সামনে
চলে যায় তাহলে আমাদের মানসম্মান সব চলে যাবে। অতঃপর অনেক আলোচনার পর শিশু মোহাম্মদকে কাবা ঘরের সামনে যাবার অনুমতি দেওয়া হলো। শিশু মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কাবা ঘরের কাছে গিয়ে আকাশের দিকে মুখ তুললেন এবং আল্লাহর কাছে দোয়া চাইলেন। সঙ্গে সঙ্গে মক্কার বুকে মুসলধার বৃষ্টিপাত শুরু হলো। দেখতে দেখতে মক্কার চারিদিকে বৃষ্টিতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। এটা দেখে মক্কার মানুষেরা খুবই খুশি হয়ে যায় এবং বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে জিজার মত তাদের বাড়ি চলে যায়। প্রিয় দর্শক একবার ভেবে দেখুন এই কাহিনীটি শুধু
ইতিহাস নয় এটা ভালোবাসা কষ্টের আর তাকওয়ার এক জীবন্ত নির্দোষ আমাদের দয়ার নবী রহমতের নবী কতই না কষ্ট পেয়েছেন তিনি এত কষ্ট সয়েও কাউকে অভিশাপ দেননি শুধু দোয়া করেছিলেন হে আমার রব আমার উম্মতকে মাফ করে দাও তারা জানে না আমি কে এই সেই নবী যার ভালোবাসা ছাড়া জান্নাতের দরজা খুলবে না কারো জন্য আর আজ আমরা এই যুগের মুসলিম কতটুকু কাঁদি তার জন্য কতটুকু ভালোবাসি তাকে কতটুকু তার সুন্ন আঁকড়ে ধরেছি একবার ভেবে দেখুন যে নবীর কষ্টে পাহাড় কাঁদে গাছ কাঁদে পশুপাখি কাঁদে আর আমরা আমাদের চোখে জল আসে না আমাদের হৃদয় কেন নড়ে না প্রিয় দর্শক আসুন আমরা সকলেই
দোয়া করি মহান আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের সকলকে সেই দয়ার নবীর ওসিলায় মাফ করে দেন আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলের দোয়া কবুল করুক আমিন আসসালামু আলাইকুম।
শেষকথা :
আমাদের এই mahabishwatvnews.com পত্রিকা ওয়েবসাইটে প্রতিনিয়ত যে নিউজ বা শিক্ষনীয় ব্লগ পোস্ট করা হয় ঠিক তেমনই আজকের এই শিক্ষনীয় আর্টিকেলটি আশাকরি আপনাদের অনেক উপকারে আসছে। 🫣
আর হ্যাঁ আজকের আর্টিকেলটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার বন্ধুবান্ধবদের সাথে পোস্টটি শেয়ার করবেন,যাতে তারাও এই শিক্ষণীয় আর্টিকেলটি পড়ে "শিশু নবীর কষ্টের জিবনী।মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর ছোট বেলার একটি আশ্চর্য কাহিনি। ইসলামিককাহিনী| মহাবিশ্ব টিভি নিউজ" সম্পর্কে জেনে উপকৃত হতে পারে।
আরও পোস্ট পড়ুন-
খাজা বাবা ও জয়পালের লড়াই। খাজা বাবার জিন্দা কারামত। ইসলামিক কাহিনী। মহাবিশ্ব টিভি নিউজ
অত্যাচারী ফেরাউনের অলৌকিক কাহিনী |আল্লাহর আজাব | ইসলামিক কাহিনী। মহাবিশ্ব টিভি নিউজ
গরিব মূর্তিকারের জাদুকরী টিয়া পাখি | Bangla story | bangla cartoon | Bengali Fairy Tales Cartoon
গ্রামে থেকেই লাখের ব্যবসা শুরু করুন! একটাই প্যাকেটের রহস্যে লুকিয়ে আছে কোটি টাকার সুযোগ
